ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না

লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না
×

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। গতকাল শুক্রবার এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ খাতে লুটপাটের সুযোগ সরকারকেই বন্ধ করতে হবে। এসবের দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের বর্ধিত দামও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বক্তরা বলেন, বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিইআরসি এটা আমলে নিয়ে গণশুনানির কথা বলেছে। ব্যাপক ভর্তুকির কথা বলে দফায় দফায় অতীতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারও সে পথ অবলম্বন করছে। বাস্তবে অতীতে জ্বালানি খাতে চুরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করার জন্যই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমান সরকারকে এগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনোভাবেই জনগণের ওপর দায় চাপানো চলবে না।

এলপি গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারে দাবি জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এলপি গ্যাসের দাম ৫৯৯ টাকা বাড়িয়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯৪০ টাকা, যা কিনতে ক্রেতাদের আরও ১০০-২০০ টাকা বেশি দিতে হয়। জনগণের জীবনযাত্রায় তীব্র আর্থিক সংকট বিবেচনায় অবিলম্বে এলপি গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করা দরকার।
দুপুর ১২টায় নগরীর ২ নম্বর রেল গেটে এ সমাবেশ ও পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব এস এম কাদির।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি-শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে ফেলবে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হবে, একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারাবে। 
এ ছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলবে। 
 

আরও পড়ুন

×