ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুর

১৬ ঘণ্টা থানায় বিএনপি ও জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী

১৬ ঘণ্টা থানায় বিএনপি ও জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী
×

ছবি: ফাইল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পুলিশের হাতে আটক এক মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে ১৬ ঘণ্টা থানা হেফাজতে থাকতে হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতাকর্মীকে। পরে মুচলেকা রেখে তাদের স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদক কারবারে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে নওদা আজমপুর গ্রাম থেকে আট পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। তাকে থানায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাইদুল ইসলাম, সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল আসলাম নামের জামায়াতে ইসলামীর চার নেতাকর্মী। তারা আটক মাদক কারবারি রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তারা ওসির সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করেন। এক পর্যায়ে হুমকিধমকিও দেন।

তাদের আচরণে বিরক্ত হয়ে পুলিশ পাঁচজনকেই আটক করে। মিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, রোববার সকালে তিনি সামাজিক মাধ্যম থেকে বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর দাবি, ‘আটক চারজন সরাসরি জামায়াতের কোনো কমিটিতে নেই। তবে আমাদের সাপোর্টার ও গত নির্বাচনে তারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। প্রচার-প্রচারণায়ও ছিলেন।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানের ভাষ্য, আটক ইউপি সদস্য এনামুল হক বিএনপির কেউ নন। তবে বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন, এনামুল আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি (এনামুল) সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, মাদকসহ পুলিশ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে। তাকে ছাড়াতে তদবির নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য এনামুল হকসহ জামায়াতের চারজন নেতা। পরে তাদেরও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সারারাত তারা থানাতেই ছিলেন। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না– এমন মুচলেকা রেখে রোববার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×