সীমান্ত পেরিয়ে ‘নিখোঁজ’ ১৭৬ গরু তিন থানার অভিযানে উদ্ধার
বাঘা উপজেলার পলাশী ফতেপুর গ্রাম থেকে সীমান্তের ওপাড়ে চলে যায় ১৭৬টি গরু
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৭:৪০
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল থেকে পথ ভুলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় চলে যাওয়া ১৭৬টি গরু নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছিলেন খামারিরা। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি গরুগুলো নিজেদের দাবি করে আটকে দিলে দিশেহারা হয়ে পড়েন প্রকৃত মালিকরা। পরে বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের পলাশী ফতেপুর গ্রামের কয়েকজন খামারির গরু পদ্মার চরে চরছিল। একপর্যায়ে গরুগুলো বাঘা থানার সীমানা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা এলাকায় চলে যায়। পরে সেখানকার কিছু লোকজন গরুগুলো নিজেদের দাবি করে আটকে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে খামারিরা পুলিশের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে বাঘা থানার পুলিশ লালপুর ও দৌলতপুর থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে যারা গরুগুলো আটকে রেখেছিল তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ১৭৬টি গরুর মালিক ৬ জন খামারি। তারা সবাই বাঘা উপজেলার পলাশী ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর মধ্যে শওকত খামারুর ৮০টি, জামাল খামারুর ২৭টি, আসাদুল হকের ১৬টি, আনারুল প্রামাণিকের ২০টি, জনি প্রামাণিকের ২০টি এবং কামাল খামারুর ১৩টি গরু ছিল।
বাঘা থানার সহকারী পরিদর্শক এনামুল হক বলেন, ‘গরুগুলো যারা নিজেদের দাবি করে আটকে রেখেছিল, তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
গরু ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন খামারিরা। শওকত খামারুসহ অন্য মালিকরা বলেন, ‘চরে চরতে গিয়ে গরুগুলো সীমানা পার হয়ে গিয়েছিল। এতগুলো গরু হারিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। পুলিশের সহযোগিতায় গরুগুলো ফিরে পেয়েছি।’
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, ‘পদ্মার চর এলাকা থেকে গরুগুলো পথ ভুলে দৌলতপুর সীমানায় চলে যায়। মালিকদের অভিযোগের পর আমরা দ্রুত অভিযান চালাই। লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশের সহায়তায় গরুগুলো উদ্ধার করে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের মতে, পদ্মার চরাঞ্চলে প্রায়ই গবাদি পশু চরতে গিয়ে সীমানা অতিক্রম করে অন্য এলাকায় চলে যায়। এ কারণে সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে খামারিদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
