ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সোনামসজিদ বন্দর

শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাথর আমদানি বন্ধ

১১ দিন ধরে অচলাবস্থা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাথর আমদানি বন্ধ
×

সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ২০:৫১

পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১ মে থেকে টানা ১১ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের প্রায় আট হাজার শ্রমিক।

এক সময়ের কর্মচাঞ্চল্যে ভরা সোনামসজিদ স্থলবন্দর এখন প্রায় নিস্তব্ধ। পাথরবাহী ট্রাকের আনাগোনা বন্ধ থাকায় বন্দরজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান পরিবেশ। দীর্ঘদিন আগে ফল আমদানি বন্ধ হওয়ার পর এবার পাথর আমদানিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে প্রতি টন পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমদানিকারকরা পাথর আমদানি বন্ধ করে দেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানিকৃত পাথরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নিম্নমানের হওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

পাথর আমদানিকারক আরিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল বলেন, ‘লোকসান দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী পাথর আমদানি করতে পারব না। বর্ধিত শুল্কায়ন মূল্য প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’ আরেক আমদানিকারক সাঈদি ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে ১৩ ডলারের ভিত্তিতে এলসি করেছি। এখন ভারতের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছি।’

এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বন্দরের শ্রমিকদের জীবনে। প্রতিদিনের মজুরিতে কাজ করা হাজারো শ্রমিক এখন আয়হীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। 

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে কাজ করা শ্রমিক রহমত আলী বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। ১১ দিন ধরে কোনো ট্রাক না আসায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আর কয়েক দিন এভাবে চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’ আরেক শ্রমিক কলিমুদ্দিন বলেন, ‘পাথর আমদানিই আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। এখন সারাদিন বসে থেকেও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।’

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস নামবে এবং শ্রমিকদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’

উল্লেখ্য, অন্যান্য বন্দরের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন

×