জিরা কিনে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২০:২৬
রাজশাহীর বাঘায় জিরা বিক্রির অর্ধকোটি টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে থানা-পুলিশ, ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয় সালিশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রি করা জিরার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে বাঘা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী পাবনার সুজানগর উপজেলার চর চিনাখড়া গ্রামের ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার। অভিযুক্তরা হলেন—আড়ানী পৌরসভার জোতরঘু গ্রামের বাসিন্দা ও আড়ানী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাত আহমেদ তুফান, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাগ্নে সুইট ও শান্ত।
ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার জানান, আড়ানী পৌরসভার পালপাড়া এলাকার সুইট তাঁর পরিচিত গোদাগাড়ী উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সিনারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিরা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে গত ৬ মে সকালে ৩০ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তায় মোট ৯ হাজার কেজি জিরা ট্রাকে করে সরবরাহ করা হয়। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা হিসেবে যার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগে বলা হয়, সুইট ও শান্ত জিরাগুলো সুজাত আহমেদ তুফানের বাড়ির পাশের রেললাইনের ধারে নামানোর নির্দেশ দেন। মালপত্র নামানোর আগে টাকা চাইলে তারা নাফিজ এন্টারপ্রাইজের নামে পূবালী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক দেন। পরে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে তুলে লালপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং বাকি ১৫০ বস্তা তুফানের বাড়িসংলগ্ন গোডাউনে রাখা হয়।
বাদীর দাবি, পরে নগদ ২৫ লাখ টাকা দেখিয়ে বাকি টাকা সকাল ১০টার মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে চেক ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দফার অভিযোগে ৭২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীকালে দায়ের করা মামলার এজাহারে সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনা জানাজানি হলে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। পরে দুই দফায় মোট ১৭৫ বস্তা জিরা ফেরত দেওয়া হয়।
তোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রথমে ১১০ বস্তা এবং পরে ৬৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শুরুতে প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাব ধরে ৩৭ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। পরে বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি।’
বাদী ফেরদৌস সরদার (মিঠন) বলেন, ‘এখনও ১২৫ বস্তা জিরা কিংবা তার সমমূল্যের টাকা ফেরত পাইনি। সেগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলা করেছি।’
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, ‘জিরা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর আগে দুই পক্ষ সমঝোতার জন্য সময় নিয়েছিল।’
অভিযুক্ত সুজাত আহমেদ তুফান দাবি করেন, ‘প্রথম দফায় ১১০ বস্তা, দ্বিতীয় দফায় ৬৫ বস্তা এবং ঈশ্বরদী থেকে আরও ৬০ বস্তা জিরা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’
