মহাসড়ক ও নদীর পাশে আবর্জনার স্তূপ
এনামুল হক, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ও গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। বিশেষ করে কাটাখালী ব্রিজ ও খলশি ব্রিজের পাশে ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করলেও দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
মহাসড়ক এখন ময়লার স্তূপ
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বালুয়া বাজার ও গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে সড়কের দুই পাশে ময়লার পাহাড় জমেছে। প্রতিদিন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বাজারের ময়লা সংগ্রহ করে ভ্যানের মাধ্যমে সড়কের পাশে ফেলে যান। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্পট না থাকায় সড়কের ধারে ফেলা এসব আবর্জনা বৃষ্টিতে ধুয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কের পাশের এই বর্জ্য দুর্ভোগের প্রধান শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। নাকে রুমাল চেপে যাতায়াত করতে হয় এই পথ দিয়ে। বৃষ্টির দিনে আবর্জনার সঙ্গে কাদাপানি মিলে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ময়লা ও দূষিত পানি বিদ্যালয় এলাকায় ঢুকে পড়ে। কমে যায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। গোবিন্দগঞ্জ বেগম মজিদ (বিএম) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া খাতুন জানায়, স্কুলের পাশে অপরিকল্পিত ময়লার স্তূপের গন্ধে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন ময়লা ফেলায় সারাক্ষণ উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। কুকুর, বেড়াল এসে এসব ঘাঁটাঘাঁটি করার কারণে দুর্গন্ধ আরও বাড়ে। মশার উপদ্রবও বেশি। এসব আবর্জনা অপসারণে উদ্যোগ নেয় না কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্ভোগ সহ্য করেই আশপাশের বাসিন্দাদের বসবাস করতে হচ্ছে।
নদী ও পরিবেশের ক্ষতি
সরেজমিনে খলশি এলাকায় করতোয়া নদীর তীর ও কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পচা ও উচ্ছিষ্ট খাবার, কলার কাঁদি, নারকেল ও সুপারির
বাকল, পরিত্যক্ত বস্তা, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের খালি প্যাকেটসহ বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ বাজারের বর্জ্য। সেই ময়লা নদীতে পড়ে পানি
দূষিত হচ্ছে। এতে নদীতীরের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর গতিপথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও কুঠিবাড়ী এলাকাতেও ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। জমে থাকা এসব
বর্জ্যের কারণে মশা-মাছি ও নানা জীবাণু ছড়াচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ে একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, ডাম্পিং স্পট না থাকাই এ সমস্যার মূল কারণ। তিনি দ্রুত জায়গা নির্ধারণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান আবর্জনা সরানোর আশ্বাস দেন এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে পৌরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
- বিষয় :
- আবর্জনা
