ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খাল খননে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

খাল খননে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
×

কুষ্টিয়ার খোকসায় পুড়িয়ে দেওয়া দুটি এক্সকাভেটর। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দ্বিপচর সেতুর কাছ থেকে তোলা। ছবি: সমকাল

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৬:৪২

কুষ্টিয়ার খোকসায় সরকারি খাল খননে ব্যবহৃত দুটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে উপজেলার মোড়াগাছা-হাসিপুর খালের উৎসমুখ দ্বিপচর সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা এক্সকাভেটর মালিকের মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন ও এক্সকাভেটরের ব্যাটারিও লুটে নিয়েছে।

গত ১৬ মার্চ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির খননকাজের উদ্বোধন করেন। মোড়াগাছা বাজারের স্লুইসগেট থেকে খালের উৎসমুখ দ্বিপচরের সেতু পর্যন্ত ৯০০ মিটার খনন কাজের প্রথম পর্যায় ইতোমধ্যে শেষের দিকে। এরই মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিপচর সেতুর কাছে এক্সকাভেটর দিয়ে খালের মাটি কাটা চলছিলো। এ সময় গড়াই নদীর দিক থেকে ১৫-২০ জন আগ্নেয়াস্ত্রধারী ব্যক্তি এসে প্রকল্পের দুজন নৈশপ্রহরী ও এক্সকাভেটর চালকের সহকারী সবুজ হোসেনের ওপর হামলা চালায়। ভয়ে এক্সকাভেটর চালকেরা পালিয়ে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা প্রথমে দুটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে। চলে যাবার সময় তারা এক্সকাভেটর মালিকের একটি মোটর সাইকেল, এক্সকাভেটরের দুটি ব্যাটারি ও শ্রমিকদের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে খোকসা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এক্সকাভেটর চালক সিয়াম মন্ডল বলেন, রাতে তারা মাটি কাটছিলেন। সন্ত্রাসীদের হামলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে অপর চালক তাঁর কাছে চলে আসেন। পরে তারা দুজন একসঙ্গে পালিয়ে যান। তারা সরকারি কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেনকে জানালে রাত দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন। তারা মেশিনের আগুন নেভান। পরে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাল খনন প্রকল্পের একমাত্র কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেন বলেন, ঘটনাটি ক্লুলেস। এটিকে স্রেফ ডাকাতি ছাড়া কিছু বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি দিয়ে খাল খনন ও খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় চরে বসবাসকারী ভূমিহীন লোকজন খুব খুশি। তাদের কাছে কেউ চাঁদাও চায়নি। কী কারণে এ ঘটনা ঘটানো হলো– তা বুঝে উঠতে পাছেন না। 

এ বিষয়ে এক্সকাভেটরের মালিক পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও তাসমিন জাহান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে হামলার ঘটনার কারণ জানতে থানার ওসিকে নিদেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন।

আরও পড়ুন

×