পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে ২২ নেতাকর্মীর পদত্যাগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। এমনকি সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলটির চার নেতা। আবার গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই চারজনসহ ২২ জন পদত্যাগ করেছেন বলেও জানানো হয়। ঘোষিত কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা।
এনসিপি নেতা মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট দলটির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি। এরপর রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষিত কমিটিকে পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে পদত্যাগ করেন চার নেতা। তারা হলেন– কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানী রিয়াজ।
সংবাদ সম্মেলনে রাফসান জানী রিয়াজ বলেন, নবগঠিত কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। আবার এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের অনেকেই চেনেন না। তাই আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ সময় তিনি দলের দু-তিনজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজাউদ্দিন চট্টগ্রামে মহানগর কমিটি পরিচালনা করছেন। কিন্তু তিনি আমাদের অবদানের বিষয়টি না দেখে নিজের কৃতিত্ব নিচ্ছেন। আবার দলের নীতি অগ্রাহ্য করেছেন নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। আবার মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক করা হলেও তাঁর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, এনসিপিকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক বেশি প্রত্যাশা রয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই সব দিক বিবেচনা করা হয়েছে। এরপরও হয়তো কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। আবার অনেকে হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ পাননি। এ কারণে তাদের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত রয়েছেন।
আরিফ মঈনুদ্দিন অবশ্য বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এনসিপির নীতি অনুসারে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ হয়তো ভুল বুঝছেন। আশা করছি, যারা পদত্যাগের কথা বলছেন, তারা ফিরে আসবেন।
চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক কমিটি গঠন করার মধ্য দিয়ে গত বছরের ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে এনসিপির আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয় মীর আরশাদুল হককে। তবে সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
- বিষয় :
- কমিটি
