বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় মা ও মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা দেন পরকীয়া প্রেমিক
আটক মো. উজ্জ্বল খান
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১৫:৫২
পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় শ্বাসরোধ করে জাহানারাকে হত্যার পর সঙ্গে থাকা শিশু কন্যা সামিয়াকেও একইভাবে হত্যা করে উজ্জ্বল। প্রমাণ লোপাট করতে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয় মা ও মেয়ের মরদেহ।
আটকের পর মো. উজ্জ্বল খান এমন তথ্য দিয়েছেন বলে জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত এসপি ফাতেমা ইসলাম। উজ্জ্বল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতেমা ইসলাম জানান, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত জাহানারার বাবা মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আবুল বাসার মোল্লা প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৬ মে উজ্জ্বলকে আটক করে। হত্যার পর মাটিচাপা দিতে ব্যবহৃত কোদালটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেছে বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত এসপি আরও জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও হত্যাকারী উজ্জ্বল রাজধানীর আমিন বাজারে একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রায় ৩ বছর ধরে চলা প্রেমের এক পর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয় জাহানারা।
ফাতেমা ইসলাম জানান, গত ৪ মে জাহানারাকে মোবাইল ফোনে জামতলা বাজারে আসতে বলেন উজ্জ্বল। বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে বিকেলে জাহানারা তার শিশু কন্যা সামিয়াকে নিয়ে জামতলা বাজারে আসেন। উজ্জ্বল তাদেরকে ফরিদপুর সদরের চরমাধদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় সামচুল মোল্লার নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রেম ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে দু’জনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জ্বল উত্তেজিত হয়ে বুকে সজোরে ঘুসি মারলে অজ্ঞান হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন জাহানারা। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জ্বল। এ সময় শিশু সামিয়া কান্না শুরু করলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। পরে বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুর পাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ পুঁতে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখে। গভীর রাত পর্যন্ত উজ্জ্বল একাই নির্মম এই কাজ করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের মো. লালন মোল্লার মেয়ে ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী। হত্যার শিকার শিশু সামিয়া, আমজাদ-জাহানারা দম্পতির একমাত্র মেয়ে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে বিকেলে ১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার পুকুর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও তার শিশু কন্যা সামিয়ার (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
