ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
×

পাঁচবিবির আওলাই ইউনিয়নের শিরট্টি বাজারে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে বসতবাড়ি। ছবি: সমকাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:১৮ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ১২:৪৪

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শিরট্টি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কালভার্টের মুখ বন্ধ করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কয়েকশ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। এতে করে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও শঙ্কা বাড়ছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চানপাড়া-ইটাখোলা সড়কের শিরট্টি বাজার-সংলগ্ন দুটি কালভার্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারহুত, গোয়ালপাড়া ও হরিপুর মাঠের অতিরিক্ত পানি বর্ষা মৌসুমে হারাবতী নদীতে নিষ্কাশিত হয়ে আসছে। এই দুটি কালভার্ট এলাকার কৃষিজমির পানি অপসারণের প্রধান ভরসা। কিন্তু সম্প্রতি শিরট্টি গ্রামের আব্দুল আলীম নামে এক ব্যক্তি ওই কালভার্ট দুটির মুখ বন্ধ করে পাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকবে। এতে করে ধান, গম, সরিষা, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ থেকে মুক্তি পেতে তারা দ্রুত কালভার্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। শিরট্টি গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন, নজরুল ইসলাম ও তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এই মাঠগুলো আমাদের জীবিকার প্রধান উৎস। কালভার্ট দিয়ে পানি না নামলে পুরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে।’ স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় আমার জমি বেশি। কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব আমি। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় হবে।’

অভিযুক্ত আব্দুল আলীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনেই জায়গা ফাঁকা রেখে বাড়ি নির্মাণ করছি। পানি নিষ্কাশনে কোনো সমস্যা হবে না। আমার বিরুদ্ধে অযাচিত অভিযোগ আনা হয়েছে।’

আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‍্যান মো. একরামুল হক চৌধুরী তৌহিদ বলেন, এলাকার অর্ধশতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরে নিজে গিয়ে কাজ করতে নিষেধ করে এসেছি। এর পরও কাজ বন্ধ না করলে আগামী উপজেলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় ভূমি অফিসকে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করা যাবে না। প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×