ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ধর্মপাশায় সেই স্থানে ফের গ্যাস উদ্‌গিরণ, আতঙ্ক

ধর্মপাশায় সেই স্থানে ফের  গ্যাস উদ্‌গিরণ, আতঙ্ক
×

ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রায়পুরে হাওরের কৃষি জমিতে গ্যাস উদ্‌গিরণ সমকাল

 ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে সেই স্থানে আবারও প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্‌গিরণের ঘটনা ঘটছে। সোমবার সকাল ৯টায় গ্যাস উদ্‌গিরণ শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একই স্থানে সেচ পাম্প বসাতে গেলে মাটির নিচ থেকে প্রবল বেগে গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বাপেক্সের লোকজন তা সরেজমিন পরিদর্শন করে এখানে গ্যাস থাকার কথা প্রশাসনকে জানায়।
গ্যাস উদ্‌গিরণের সময় ঘটনাস্থলে পানি থাকায় প্রবল বেগে পানি ওপরে উঠতে থাকে। এ সময় ওই গ্রামের একজন কলেজ শিক্ষার্থী বিষয়টি ফেসবুকে লাইভ করলে তা জানাজানি হয় এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়। 

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে রায়পুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে মো. আলমগীরসহ কয়েকজন নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মিস্ত্রি দিয়ে সেচ পাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ২৫০ ফুট গভীরে পাইপ বসিয়ে মোটর দিয়ে পানি তোলার কাজ শুরু করলে ভেতর থেকে বালু মিশ্রিত পানিসহ পাইপ ও মোটর ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসে। এক পর্যায়ে মাটির গভীর থেকে প্রবল বেগে বালু মিশ্রিত পানি বের হতে থাকে। এমন অবস্থায় সেখানে আর সেচ পাম্প বসাতে পারেননি কৃষক আলমগীর। পরে খানিকটা দূরে সেচ পাম্প বসিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু গ্যাস উদ্‌গিরণের জায়গাটি অরক্ষিত থেকে যায়। গত সোমবার সকাল ৯টায় সেখানে আবারও গ্যাস উদ্‌গিরণ শুরু হয় এবং সকাল ১১টার দিকে তা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়।
রায়পুর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আকাশ আরিয়ান শেহজাদ বলেন, কৃষক আলমগীর তাঁর চাচাতো ভাই। শুরুতেই গ্যাস বের হওয়ায় সেচ পাম্পটি অন্যত্র স্থাপন করতে হয়েছিল। এখন সেখান থেকে আবারও গ্যাস বের হলো। এটি নিয়ে তাদের পরিবার খুব আতঙ্কের মধ্যে আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেচ পাম্পের জন্য খনন করা স্থানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। 
পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা বাজারের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, গ্যাস উদগীরণকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখানে দ্রুত বাপেক্সের অনুসন্ধ্যান চালানো উচিত। শুধু ‘গ্যাস আছে’- এমন কথা বলে বসে থাকলে চলবেনা। গ্যাস না পাওয়া গেলেও অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।  যদি এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে আবারও যে কোনো সময় গ্যাস উদগীরণ হতে পারে। ফলে স্থানীয়দের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে । 

পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, এ নিয়ে দুই দুইবার গ্যাস উদগীরণের ফলে বোঝা যায় এখানে গ্যাস রয়েছে। যদি সরকারিভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ জায়গাটি পরীক্ষা করা হয় আর গ্যাসের সন্ধ্যান পাওয়া যায় তাহলে স্থানীয়দের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই এর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত অনুসন্ধ্যান চালাতে হবে।
ইউএনও জনি রায় বলেন, বর্তমানে সেখানে গ্যাস উদ্‌গিরণ বন্ধ আছে এবং এলাকাবাসীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। জানুয়ারিতে যখন গ্যাস উদ্‌গিরণ হয় তখন বাপেক্সকে জানানো হয়েছিল। পরে বাপেক্স থেকে জায়গাটি পরিদর্শন করে জানান, সেখানে গ্যাস রয়েছে, কিন্তু চাপ কম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য আবারও বাপেক্সকে জানানো হবে। 
 

আরও পড়ুন

×