ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুমকী সাতানি কমিউনিটি ক্লিনিক

সেবা নিতে এলেই টাকা লাগে রোগীর

নির্ধারিত সময়ের কম সময় থাকেন সিএইচসিপি

সেবা নিতে এলেই টাকা লাগে রোগীর
×

দুমকী সাতানি কমিউনিটি ক্লিনিকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায়ও তালা খোলেনি সমকাল

মো. এবাদুল হক, দুমকী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) বিরুদ্ধে বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা দিয়ে টাকা আদায়, ওষুধ বিক্রিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের কম সময় ওই ক্লিনিকে কর্মরত পাওয়া গেছে। তিনি দেরিতে ক্লিনিকে আসেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বেরিয়ে যান। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জনসংখ্যা আনুমানিক ২০ হাজার। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এ ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া, দুমকী সাতানি ও জলিশা এলাকায় তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। দুমকী সাতানি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে কর্মরত আছেন কাজী ফাবিয়া জাহান। কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাঁর কর্মস্থলে থাকার কথা। ১২ মে তিনি সেখানে আসেন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে, চলে যান ২টা ২২ মিনিটে। ১২ মে আসেন ১০টা ২১ মিনিটে, ক্লিনিক ছাড়েন ২টা ১৫ মিনিটে। ১৪ মে এই কর্মকর্তা ক্লিনিকে আসেন ১০টা ৪২ মিনিটে, চলে যান ১টা ৫৭ মিনিটে। এ ছাড়া ১৭ মে তিনি সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে কর্মস্থলে হাজির হন। 
রোববার ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা সাতআনি গ্রামের রেনু বেগম বলেন, ‘আজ ২০ টাকা নিয়ে আসছি। ২০ টাকার ওষুধ দিয়েছে। আর টাকা ছিল না তাই প্রেশার মাপতে পারি নাই, প্রেশার মাপাইলে ১০ টাকা লাগে।’

রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, সিএইচসিপি কাজী ফাবিয়া জাহান ওজন মাপলে ১০ টাকা, রক্তচাপ মাপলে ১০ টাকা, নেবুলাইজার ব্যবহার করলে ৫০ টাকা আদায় করেন। এ ছাড়া বিনামূল্যের ওষুধের জন্যও টাকা নেন। এ ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের কক্ষেই রোগীদের স্যালাইন পুশ করেন। বিনিময়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন তিনি। 
সাতানি গ্রামের ফিরোজা বেগমকে পাওয়া যায় রোববার। তাঁর কাছে টাকা না থাকায় রক্তচাপ মাপেননি বলে অভিযোগ করেন। সুমি আক্তার নামের আরেক রোগী বলেন, ‘টাকা দিয়াই তো ওষুধ নেওয়া লাগে। ওষুধ বেশি হলে টাকা বেশি লাগে। এক পাতা ক্যালশিয়াম, এক পাতা ভিটামিন, এক পাতা কাশির ওষুধ আর দুইটা খাবার স্যালাইন নিছি ৭০ টাকা দিয়া।’
শিল্পী বেগম নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমি আগের মাসে আয়রন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, স্যালাইন নিছি। ১৫০ টাকা রাখছে। আমার বাচ্চা হবে, তাই এগুলাই দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেনের ভাষ্য, প্রতিদিন এই ক্লিনিকে ৫০-৬০ জন রোগী আসেন। সবার কাছ থেকেই টাকা নেন সিএইচসিপি। এমনকি ভেতরে বসে স্যালাইনও দেন, সেজন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করেন। 

সিএইচসিপি কাজী ফাবিয়া জাহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রোববার তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তাঁর দাবি, রোগীদের ভালো চিকিৎসা দেন। নিউজ করলে সেবা কমিয়ে দেবেন বলেও সতর্ক করেন। দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। অনিয়মের প্রমাণ তুলে ধরলে সদুত্তর দিতে পারেননি। 
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। 
এমন কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল হাসান শাহীন। তবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তদন্ত করে দেখব। কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে টাকা নেওয়ার নিয়ম নাই, এটা নিয়ে তাঁকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর যদি কোনো ডিগ্রি বা নার্সিং কোর্স করা থাকে তাহলে চেম্বারে বসে স্যালাইন দিতে পারেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে স্যালাইন দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন

×