আমার ছেলের হাড় হলেও ফেরত দিন, ১৪ বছর ধরে অপেক্ষায় আছি
ছবি: সমকাল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ২১:৪১
‘আমার ছেলের অনেক খোঁজ করেছি। এলাকার মন্ত্রী-এমপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। সরকারের কাছে দাবি, গুমের শিকার আমার ছেলের হাড় হলেও আমাকে ফেরত দিন। ১৪ বছর ধরে আমি অপেক্ষায় আছি।’ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ছেলের ছবি বুকে নিয়ে এভাবেই আকুতি জানান মিনারা বেগম। তার ছেলে ইমাম হাসান বাদলকে ২০১২ সালের ৫ মার্চ ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
মিনারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ইমাম হাসান বাদল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়েছি। তার বাবা রুহুল আমিন ছেলেকে ফিরে পেতে থানায় জিডি করেছেন, এলাকার মন্ত্রী-এমপিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অবশেষে ছেলের শোকে তিনি মারা যান। ছেলের মুখ না দেখেই তাকে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হয়েছে।’
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক এলাকায় পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধনের আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। এতে মানবাধিকার কর্মী, সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড়ের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, শেখ সাজ্জাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম, মানিক উদ্দীন এবং অধিকার পঞ্চগড়ের ফোকাল পার্সন সফিকুল আলম।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশ নজিরবিহীন গুমের ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে না হয়, সে দাবি জানান তারা।
এ সময় গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, গুম হওয়া পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি পরিবারের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, ভারতে কেউ এখনো গুম অবস্থায় আছে কি না সে বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
