ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খুলনায় প্রভাবশালীদের দখলে রেলের ৭৬ একর জমি

খুলনায় প্রভাবশালীদের দখলে রেলের ৭৬ একর জমি
×

 খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না। নগরীর বড় বাজার, কদমতলা, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট, জোড়াগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশের জমি দখল করে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। রেলওয়ের হিসাবে খুলনা ১৮নং কাছারির আওতায় ৭৬ দশমিক শূন্য ৫ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় এই জমি উদ্ধার করতে পারছে না রেলওয়ে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন খুলনা জেলার বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের দীর্ঘসূত্রতা এবং তদারকির অভাবে রেলের পতিত ও অব্যবহৃত জমিগুলো এখন প্রভাবশালী মহলের বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন করে আরও বহু স্থাপনা রাতারাতি গড়ে উঠেছে।

রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ ও স্থানীয় কানুনগো কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রূপসা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত খুলনায় রেলওয়ের মোট জমি রয়েছে ১৪ হাজার ১৩৩ একর। এর মধ্যে রেলস্টেশনসহ নিজস্ব ও কারিগরি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৬৪ দশমিক ৪০ একর জমি। রেল বাণিজ্যিক ইজারা    দিয়েছে ১৬ দশমিক ৮৯ একর, কৃষি ও জলাশয় রয়েছে ২১৬ দশমিক ৪০ একর। বাকি জমির মধ্যে    ৬১৫ দশমিক ৮২ একর পতিত এবং ৭৬ দশমিক ৫ একর সরাসরি অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রেলের হিসাবে মাত্র ৭৬ একর অবৈধ দখলে থাকার তথ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে এর পরিমাণ কয়েক গুণ।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রধানত তিন উপায়ে রেলের জমি দখল করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা অবৈধ বাণিজ্যিক মার্কেট ও দোকানপাট নির্মাণ করছেন। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে কুখ্যাত এরশাদ শিকদারের ভাঙা ‘সাদ মনি মার্কেট’-এর জমিতে নতুন করে মার্কেট তোলার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া পুরোনো রেলস্টেশনের সামনে সেনাবাহিনীর মালপত্র নামানোর পরিত্যক্ত জমিতে অন্তত ১২টি নতুন পাকা দোকান তুলে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। নগরীর ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় কেসিসির পার্কের পাশে অর্ধশত বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি হয়েছে।
রেলওয়ে কলোনির ভেতরে থাকা বেশ কিছু পুকুর অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় কানুনগো কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা বা ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে দখলদারদের নির্মাণকাজে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

রেলের জমি ব্যবহারকারীরা জানান, বেশির ভাগ সময় রেলওয়ের ইজারা নিয়ে দোকান বা মার্কেট নির্মাণ করেন ব্যবসায়ীরা। পরে সেই দোকানগুলো তারা বিক্রি করেন দেন। রেলের জমিতে কোটি টাকার বাণিজ্য চললেও ভূসম্পত্তি কর্মকর্তারা এগুলো দেখেও না দেখার ভান করেন। 
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা জানান, অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর আলটিমেটাম দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় জটিলতার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম পুরোপুরি সফল করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
 

আরও পড়ুন

×