ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মশক নিধনে দেশি ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করবে চসিক

চবির গবেষকদের সঙ্গে বৈঠক শিগগির

মশক নিধনে দেশি ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করবে চসিক
×

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মশক নিধনে দেশি প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ ব্যবহারে উদ্যোগ নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের উদ্ভাবিত ঔষধি উদ্ভিদের নির্যাস ও ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের উপায় ঠিক করার জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। প্রথম দিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করা হবে। পরে ধীরে ধীরে ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।  

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘অতীতে মশক নিধনে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা 
হয়েছে, সেসবের কার্যকারিতা কম ছিল। আবার এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই আমরা সর্বশেষ বিশ্বখ্যাত মার্কিন কোম্পানি ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি থেকে 

প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার আধুনিক 
প্রযুক্তির কীটনাশক বিটিআই (বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) কিনে ব্যবহার করেছি। এতে দারুণ ফলও পাওয়া গেছে। এখন আমরা দেশি প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ প্রয়োগের চিন্তাভাবনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশি প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ এখনও সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়। যেহেতু এসব ওষুধের কার্যকারিতা বেশি, সেহেতু এসব ওষুধ ব্যবহারে প্রশাসনিক নানা প্রক্রিয়া সম্পন্নে আমরা উদ্যোগ নেব। প্রথম দিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী সময়ে এর ব্যবহার বাড়ানো হবে। আমরা শিগগিরই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে বসব।’
মশক নিধন কার্যক্রমে চসিক ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করলেও, তেমন সুফল মেলেনি। এসব রাসায়নিকের কার্যকারিতা মাত্র ১৬-২৫ শতাংশ। 
সম্প্রতি মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখতে মার্কিন ওই কোম্পানির অর্থায়নে আমেরিকার ফ্লোরিডায় যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের এই সফরের অনুমোদন দেননি। প্রধানমন্ত্রী সফরের সারসংক্ষেপে নির্দেশনা দেন, ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দু-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক দলের প্রধান উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক চসিকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্ভাবিত ঔষধি উদ্ভিদের নির্যাস মশা নিধনে শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। শতভাগ লার্ভা নিধনে সক্ষম উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে– সর্পগন্ধা, বনগাঁদা, ফুলকুঁড়ি, নাকফুল ও গোলমরিচ।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন শহরের সড়ক বিভাজকে সব বিদেশি গাছ লাগিয়ে বসে আছে। অথচ সেখানে মশা সহ্য করতে পারে না এমন দেশি গাছ লাগাতে পারে। এতে মশার উপদ্রব কমত।’
শ্যামল চৌধুরী উদ্ভাবিত ‘মসকুবার’ সম্পর্কে ড. ফারুক বলেন, ‘সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের অনুরোধে মসকুবার পরীক্ষা করেছিলাম আমরা। পরীক্ষায় এটির কার্যকারিতা ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। তবে এটি কেরোসিন মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়, ফগার ফগিংয়ে কার্যকারিতা ২০ শতাংশের নিচে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমরা মসকুবার ব্যবহার করেছিলাম। কিন্তু এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি ছিল। মার্কিন কোম্পানি থেকে বিটিআই কিনে তুলনামূলক ভালো ফল পেয়েছি গত আট মাসে। এ সময়ে ১০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হয়নি কারও। তার পরও দেশি প্রযুক্তির ভেষজ আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। তবে এটি পুরোদমে ব্যবহারের আগে কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে হবে।
দৈনিক সমকালে গতকাল বুধবার ‘মশক নিধনে দেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী নয় চসিক, ১৪ বছরে ১৮ কোটি টাকার কম কার্যকর রাসায়নিক প্রয়োগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন

×