যুবদলের দুপক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে, সংঘর্ষের শঙ্কা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জে গ্রাম আদালতের একটি সালিশ বৈঠকে হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জেরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সাদাত শাহিনের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গত শুক্রবার পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে উভয়পক্ষ।
শিমুলকে মারধর ও শাহিনের অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষের লোকজন নিজেদের শক্তির মহড়া দিচ্ছে। এতে ফের সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদে একটি পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার, যুবদল নেতা শাহিনের ঘনিষ্ঠ কাইয়ূম মোল্লা, মুকুলসহ কয়েকজন এবং যুবদল নেতা কাজী সালাউদ্দিন শিমুলসহ আরও অনেকে। সালিশে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় যুবদল নেতা শাহিন মোল্লার লোকজন শিমুলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুবদল নেতা শিমুলকে মারধরের ঘটনায় হরিরামপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিমুলের পক্ষ নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপুর লোকজন গত বুধবার সন্ধ্যার পর আন্দারমানিক এলাকায় যুবদল নেতা শাহিনের অফিস ভাঙচুর করে।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিন মোল্লা স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম শান্তর অনুসারী। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপু বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার অনুসারী। এতদিন ভেতরে ভেতরে ছিল দুই পক্ষের বিরোধ। শিমুলকে মারধর ও যুবদল নেতা শাহিনের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা এবং পাল্টাপাল্টি মামলায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে বিরোধ।
মারধরের ঘটনায় গত শুক্রবার বিকেলে যুবদল নেতা মোল্লা শাহিন, কাইয়ূম মোল্লা, মিশন চৌধুরী, কবির হোসেনসহ ১১ জনের নামে মামলা করেছেন কাজী সালাহউদ্দিন শিমুল। সেদিন রাতেই অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে ৩১ জনকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেছেন মোল্লা শাহিন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান শিপু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল মোল্লা, হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন, বয়রা ইউপি সদস্য মিরাজ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ হোসেন রাজ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নিরব সিকদার।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার জানান, সালিশ চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সালিশ বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক চলছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সাদাত শাহিন এবং হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে ফোন করে তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হান্নান মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সমকালকে তিনি বলেন, যুবদলের এই ঘটনায় বিএনপি বিব্রত। দুই পক্ষকেই সংযত থাকতে বলা হয়েছে। যেহেতু উভয় পক্ষের মামলা হয়েছে, এখন আইনগত যা হওয়ার তাই হবে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, গ্রাম আদালতে মারধরের ঘটনায় এবং অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। যুবদল নেতার অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় সজল নামে একজনকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বিরোধ