‘কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না’
ঢাকা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-মুরাদনগর সড়কের আইয়ুবপুর অংশের খানাখন্দে জমে আছে বৃষ্টির পানি। গত ৫ জুন তোলা সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। গর্তে জমে আছে পানি। দেখে বোঝার উপায় নেই গর্তের গভীরতা। যানবাহন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা। চলাচল করতে দুর্ভোগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ঢাকা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-মুরাদনগর সড়কের বাঞ্ছারামপুর অংশের ৪৭ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা সদর থেকে হোমনা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার। কাড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকে পূর্বহাটি সল্পা সেতু পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার। কড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকে জীবনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়ক ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, কসবা; কুমিল্লার মুরাদনগর, দেবিদ্বার, হোমনা ও তিতাস উপজেলার লোকজন চলাচল করে। বিশেষ করে কড়িকান্দি ফেরি পার হয়ে স্বল্প সময়ে ঢাকা যাওয়া যায়। এই কারণে সড়কটি পাশের উপজেলার চালক ও যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও সড়কগুলোর বেহাল দশা। বিশেষ করে কড়িকান্দি ফেরিঘাট-বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদর-জীবনগঞ্জ বাজার সড়কের ২৩ কিলোমিটার ও কাড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকে পূর্বহাটি সল্পা সেতু পর্যন্ত পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার রাস্তা বেশি বেহাল। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি হলে রাস্তাটি বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
কড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকে আইয়ুবপুর, চরছয়আনি, কানাইনগর, দরিভেলানগর, ফতেপুর, জীবনগঞ্জ, দূর্গারামপুর-জগন্নাথপুর ব্রিজের পূর্বপাশ, ফরদাবাদ, রুপসদী, দরিকান্দি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অধিকাংশ অংশই ভেঙে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন।
আইয়ুবপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। কিন্তু বছরের পর বছর রাস্তার সংস্কার হয় না। বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের নিয়েও ভয়ে চলতে হয়। সামান্য অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাঞ্ছারামপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান, বৃষ্টির কারণে ফেরিঘাট থেকে জীবনগঞ্জ বাজার ও সল্পা সেতু পর্যন্ত রাস্তার অনেক জায়গায় ভেঙে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইট-বালু দিয়ে ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বৃষ্টির কারণে ভিটুমিন দিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- রাস্তা