ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মহাসড়কের চার কিমি অংশে নেই রোড সাইন ও মার্কিং

মহাসড়কের চার কিমি অংশে নেই রোড সাইন ও মার্কিং
×

খানাখন্দে ভরা রাস্তায় নেই রোড মার্কিং ও রোড সাইন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সিমরাইল থেকে গতকাল বুধবার তোলা সমকাল

শাহজাহান জনি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও নেই কোনো রোড সাইন ও মার্কিং। ফলে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা না থাকায় সিলেট-চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শিমরাইলেও একই অবস্থা।

মহাসড়কে যানবাহন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চলাচলের জন্য সড়কে পাশে এমএস পাইপের খুঁটিতে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ও সাংকেতিক চিহ্নযুক্ত সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকে। এগুলো দেখে একজন চালক বিশেষ করে নতুন আসা চালক সড়ক সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পান। কিন্তু কাঁচপুর ব্রিজ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটারের মধ্যে এসব খুটি ও সাইনবোর্ড গায়েব হয়ে গেছে। একইভাবে সড়কে অঙ্কিত বিভিন্ন নির্দেশক তথা রোড মার্কিংও মুছে গেছে।

অন্যদিকে মহাসড়কের শিমরাইল অংশে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামমুখী লেনের যানবাহন এসব গর্তে আটকে সৃষ্টি হয় যানজট। অন্যদিকে ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যানজট তৈরি করে। শিমরাইলের ট্রাকচালক মো. আলম বলেন, রোড সাইন ও মার্কিং গাড়ি চালানোর জন্য খুবই দরকার। কিন্তু মহাসড়কের এ অংশে রোড মার্কিং না থাকায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বাসচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে রোড মার্কিং না থাকার কারণে। 
মহাসড়কের শিমরাইল অংশে গত ঈদুল ফিতরের আগে গর্তগুলো ইট-সুড়কি দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে তা সরে গিয়ে আগের চেহারা ফিরে এসেছে। স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন বলেন, মহাসড়কে ইট-সুড়কি দিলে কোনো কাজে আসবে না। শুধু শুধু অর্থ নষ্ট ছাড়া আর কিছুই না।

হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বেহাল এ মহাসড়ক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। রোড মার্কিং না থাকায় প্রায় যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
খানাখন্দে ইট-সুরকির পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার বলেন, আমরা আমাদের শ্রমিক দিয়ে কয়েকবার সংস্কার কাজ করেছি। ভেজা সড়কে ঢালাই টিকবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে স্থায়ী ঢালাই দিতে পারছি না তবে স্থায়ী সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আমরা ঠিকাদার দিয়ে খানাখন্দের সংস্কার কাজ করতে পারব। কাঁচপুর ব্রিজ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত রোড সাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, রোড সাইন ছিল। সেগুলো কে বা কারা নিয়ে গেছে। আবারও দ্রুত স্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন

×