চা বাগানের শ্মশানের জমি দখল, প্রতিবাদে রাজপথে শ্রমিকরা
বাহুবল উপজেলার রামপুর চা বাগানের জাল টেনে শ্মশানের জায়গা বেদখল সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৯
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রামপুর চা বাগানের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানের জায়গাসহ প্রায় ৫ একর ভূমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের জেরে রামপুর ও রশিদপুর চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, শ্মশান ও চা বাগানের ভূমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে এবং তা সুরক্ষার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে পৃথকভাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দুই বাগানের শত শত শ্রমিক।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পুরাতন শ্মশানের জায়গাসহ চা বাগানের অন্তত ৫ একর ভূমি রফিকুল ইসলামসহ একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে কাঁটাতার ও জাল দিয়ে ঘিরে দখলে নিয়েছে। এটি শ্রমিকদের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। বাগান ও শ্মশানের জমি বেদখল হলে শত শত চা শ্রমিক কর্মহীন হয়ে অনাহারে মরবে। মৃত্যুর পর সৎকারটুকুও ভাগ্যে জুটবে না। অবিলম্বে এই দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করে জায়গাটি দখলমুক্ত করা না হলে বাহুবল উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের হুশিয়ারি দেন শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুর চা বাগানের একটি বড় অংশ নেট জাল দিয়ে ঘিরে সীমানা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। বিতর্কিত ওই জায়গায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে পাহারা দিতেও দেখা গেছে।
রামপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি চাম্পা লাল এবং রশিদপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নিপেন চাষা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটি শ্মশান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। রাতে সবার অগোচরে এসে বাগানের জায়গা দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়। এটি চা শ্রমিকরা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে যাবেন তারা। সেই সঙ্গে জমি দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য গীতা রানী কর্মকারও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রামপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) ওমর ফারুক বাবু বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই জায়গাটি বাগানের অন্তর্ভুক্ত। এর একটি অংশ শ্রমিকরা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেদিক থেকে এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। সম্প্রতি রাতে এসে একটি পক্ষ জায়গাটি দখলে নিতে বেড়া দেয়। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বাহুবল উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, চা বাগানের জায়গা দখল করেননি তিনি। এটি তাঁর নিজস্ব জায়গা। ২০১৯ সাল থেকে তিনি ওই জায়গাটি বুঝে পেতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রশাসন যেহেতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তাই তদন্তেই সব স্পষ্ট হবে।
- বিষয় :
- শ্রমিক