ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

২৩ বছর পর মোংলা নদীতে চালু হলো ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস

২৩ বছর পর মোংলা নদীতে চালু হলো ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস
×

বাগেরহাটের মোংলা নদীতে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। ছবি: সমকাল

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ১২:৪৪

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাটের মোংলা নদীতে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। নতুন এ উদ্যোগে মোংলা বন্দর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), শিল্পাঞ্চল এবং আশপাশের উপজেলার হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদী পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য পরিবহনে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

শনিবার সকালে স্থায়ী বন্দর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ফেরি ঘাটে ফুল টাইম ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে মোংলা নদীতে এখন থেকে দুইটি ফেরি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলাচল করবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণেই সরকার রাজনীতি করতে চায় এবং সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন শুধুমাত্র জোয়ারের সময় সীমিত পরিসরে ফেরি চলতো। ফলে নদীর দুই পাড়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কর্মজীবী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে মানুষের সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। তিনি ফেরিঘাটে ভাড়ার চার্ট টানানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'ঘাটে অবশ্যই ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। ভাড়ার চার্ট না থাকলে কেউ ভাড়া দেবেন না। কারণ আমরা সব কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।'

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা সমাজের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন। তাতে আমরা নিজেদের ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাব।' তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় জয়মনির খাদ্যগুদাম থেকে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে। ফলে ফেরি সার্ভিসটি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক হয়ে উঠবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতু নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নদীতে ফুলটাইম দুইটি ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকবে। এর ফলে শুধু মানুষের যাতায়াতই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস, বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার, গোলাম নুর জনি প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×