ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ভাঙ্গুড়া পৌরসভা

কর্মচারীদের প্রতিবাদে ভেস্তে গেল ২৪ পদে নিয়োগ

কর্মচারীদের প্রতিবাদে ভেস্তে  গেল ২৪ পদে নিয়োগ
×

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌরসভার প্রশাসক ও সচিবের মধ্যে দায় চাপাচাপি এবং প্রকাশ্য দ্বন্দ্বও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। সে অনুযায়ী পৌরসভায় ৬৪টি স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৪০ জন স্থায়ী এবং ২৫ জন অস্থায়ী (ঝাড়ুদার ও ট্রাফিক) কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে আর্থিক সক্ষমতার অভাবে অতিরিক্ত ২৪টি পদে নিয়োগ থেকে এতদিন বিরত ছিলেন পৌরসভার সাবেক জনপ্রতিনিধিরা।
অভিযোগ রয়েছে, দুই মাস আগে পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এবং পৌরসভার সচিব মো. মনছুর আলম গোপনে ওই ২৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ লক্ষ্যে গত ১৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়। পরে গত ২১ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতাসহ আটটি বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়।

এসব তথ্য সংগ্রহের সময় বিষয়টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরে আসে। এরপর তারা নতুন নিয়োগের বিরোধিতা শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান আয়ে বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই কষ্টে পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে আরও ২৪ জন নিয়োগ পেলে ভবিষ্যতে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে কর্মচারীদের তীব্র আপত্তির মুখে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বর্তমানে নিজস্ব আয়ে কোনো রকমে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে ব্যয় আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগ পৌরসভার আর্থিক সংকটকে আরও প্রকট করবে। তাদের অভিযোগ, আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই ব্যক্তিস্বার্থে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে নিয়োগ উদ্যোগের দায় নিয়ে প্রশাসক ও সচিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। পৌরসভার সচিব মনছুর আলম বলেন, ‘কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক মহোদয়। এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তিনি আমার ওপর দায় চাপাচ্ছেন। আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সচিব। তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এ প্রক্রিয়া শুরু করেন। রুটিন দাপ্তরিক কাজ হিসেবে আমি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছি। বিষয়টি জানার পর তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।’
প্রশাসক ও সচিবের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নিয়োগ উদ্যোগের প্রকৃত উদ্যোক্তা কে–তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত না করে নতুন নিয়োগের উদ্যোগ ভবিষ্যতে পৌরসভার প্রশাসনিক ও আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

×