চট্টগ্রাম
চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট
দুই কোটি টাকা চেয়ে সময় দেওয়া হয় দুই দিন, তৃতীয় দিনে হামলা
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার ডিডিএন অফিসে সন্ত্রাসীদের হামলা - ভিডিও থেকে
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৯ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আমি সাজ্জাদ গ্রুপের ডেবিট ইমন। এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা। না হলে এখন থেকে আপনি আর ব্যবসা করতে পারবেন না। আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। বেশি দূর যেতে হবে না– পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবেন– আমি কে। দুই দিন টাইম দিচ্ছি। না হলে দেখবেন কী কী হয়। চট্টগ্রাম শহরের সব ব্যবসায়ী আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবসা করছে।’
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (ডিডিএন) মালিক আদিল বিন মামুনকে এই হুমকি দেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী ডেবিট ইমন। তাঁর কথামতো চাঁদা না দেওয়ায় দুই দিন পার হওয়ার পর গতকাল সোমবার ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মুখোশধারী এক দল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তারা।
প্রতিষ্ঠানটির লোকজন বলেন, সাজ্জাদ গ্রুপ দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা না পেয়ে এ হামলা চালিয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল দুপুরে ১৫-২০ জনের একটি দল কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তিন মিনিট ভাঙচুর চালিয়ে অফিস ত্যাগ করেন দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ডিডিএনের মালিক পক্ষ মামলা দায়েরের জন্য নগরের চকবাজার থানায় যায়।
ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ‘বিদেশি একটি নম্বর থেকে দুই দিন আগে আমাকে ফোন করে ডেবিট ইমন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি। ফোনে প্রথমে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বলে। আর ব্যবসা করলে এককালীন দুই কোটি টাকা ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলে। তার কথা মতো চাঁদা না দেওয়ায় দুই দিন পরই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী।’
গত ১১ জুলাই হুমকি দেন ইমন। তিনি বর্তমানে দুবাই আছেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রমাণিক বলেন, তারা ইন্টারনেট সেবাদান প্রতিষ্ঠানে হামলা ও হুমকির অডিও, ভিডিও সব দেখেছেন। পুরো ঘটনা তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
গতকাল দুপুরে ডিডিএন অফিসে কাজ করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক দল যুবক মাস্ক পরে কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের কারও কারও হাতে চায়নিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। কুড়াল ও হাতুড়ি দিয়ে কম্পিউটারের মনিটর কোপ দিয়ে নষ্ট করে তারা। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, মুখোশধারী ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে কার্যালয়ে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র হাতে অফিসের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতির ক্ষতি করেছেন। কর্মচারীদের বেতনের জন্য আনা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য করেন তারা।
খবর পেয়ে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর চকবাজার এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নগরের বাণিজ্যিক এলাকায় এমন প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করেই গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডেবিট ইমনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে পরপর দুই দফায় গুলি চালানো হয়। এ ঘটনার পেছনেও ডেবিট ইমনের হাত রয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে।
- বিষয় :
- চাঁদা দাবি
- সন্ত্রাস