ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিজয় দিবসের আগেই ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য: সভায় যে সিদ্ধান্ত হলো
×

ফাইল ছবি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪১ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪২

আগামী বিজয় দিবসের আগেই ঝিনাইদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। শহরে প্রবেশের সময় মানুষ যেন বুঝতে পারেন, তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জেলায় প্রবেশ করছেন—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন-সংক্রান্ত বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন।

সভায় ভাস্কর্য স্থাপনের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কামালুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর প্রশাসক কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় জানানো হয়, শহরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ভাস্কর্যটি চারটি মহাসড়কের মাঝামাঝি স্থানে হওয়ায় এক পাশ থেকে অন্য পাশের মানুষ সহজে দেখতে পান না। এ কারণে সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। সড়কটি ছয় লেনে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলে ভাস্কর্যটি অপসারণ করতে হবে। ফলে নতুন করে উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সড়ক বিভাগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্যের ছয়টি নমুনাও উপস্থাপন করা হয়।

সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফেজ-১-এর উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক নিলন আলী বলেন, বর্তমান ভাস্কর্যটি যে স্থানে রয়েছে, সেটি মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। সড়ক প্রশস্ত করার সময় এটি অপসারণ করতে হবে। বর্তমান নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটি রেখে সড়ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক প্রশস্ত করা হলেও এমনভাবে নকশা করা উচিত, যাতে ভাস্কর্যটি থাকে এবং যান চলাচলেও কোনো সমস্যা না হয়।

ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন ও গণমাধ্যমকর্মী শাহজাহান নবীন বলেন, বর্তমান ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন অর্ধনির্মিত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে কখনো শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থাও করা হয়নি। তাই এমন একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা দরকার, যেখানে ভাস্কর্যটি মানুষের চোখে পড়ে এবং নতুন প্রজন্ম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে।

সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, স্থান নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু হবে। জেলা পরিষদ থেকে এ কাজে আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, মহাসড়ক ছয় লেনে সম্প্রসারণ হলেও বাস টার্মিনালসংলগ্ন স্থানটি ‘হামিদুর রহমান চত্বর’ নামেই পরিচিত থাকবে। ১৪ সদস্যের কমিটিকে দ্রুত বৈঠক করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। আশা করা হচ্ছে, নির্মাণ শেষে আগামী বিজয় দিবসে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের দিকে সদর পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের মার্চে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র বাস টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় থেমে যায়। এরপর দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল ভাস্কর্যটি। সম্প্রতি জেলা পরিষদ স্থাপনাটি অপসারণের কাজ শুরু করলেও নানা সমালোচনার মুখে তা স্থগিত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×