মোটরসাইকেলে তরুণীর ছবি ভাইরাল
‘থানায় এসেছি আপনাদের বলতে, আমি মরিনি’
সংগৃহীত ছবি
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪১ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪৯
গত বুধবার আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ওই তরুণীকে শনাক্ত করতে পেরেছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার টঙ্গী পশ্চিম থানায় এসে ঘটনার বর্ণনা দেন ওই তরুণী নিজেই। এ সময় তরুণী বলেন, ‘‘গাড়িতে (মোটরসাইকেলে) ওঠা পর্যন্ত আমার জ্ঞান ছিল, এরপর আর জ্ঞান ছিল না। আমার সাবেক স্বামী ‘আমি মারা গেছি’— এমন তথ্য ছড়িয়েছেন। এ জন্য আমি থানায় এসেছি আপনাদের বলতে, আমি মরিনি।’’
তিনি জানান, পারিবারিক চাপ নিতে না পেরে বুধবার রাতে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। এদিন উত্তরার জসীমউদ্দীনের একটি বারে যান তিনি। সেখানে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার স্বজনেরা নিতে আসেন।
প্রসঙ্গত, মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় থাকা ওই তরুণীর তিনটি ছবি প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করেন মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি ওমরাহ শেষে বিমানবন্দর থেকে বগুড়ায় ফিরছিলেন। মনোয়ার হোসেনের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় তিনি উত্তরার আবদুল্লাহপুর পার হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন। এক যুবক মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। মাঝখানে ওই তরুণীর পা ঝুলছিল। পেছন থেকে আরেক যুবক প্রাণান্ত চেষ্টা করে তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। খুব কাছে গিয়ে প্রাইভেট কার থেকে ছবি তোলেন মনোয়ার। তার ধারণা ছিল, ওই তরুণী হয় ঘুমন্ত অথবা মৃত। এ সময় ৯৯৯-এ কল করেন তিনি।
পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই মোটরসাইকেল আরোহীদের পরিচয় শনাক্ত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ওই তরুণীকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডাকা হয়। পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই তরুণীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকা থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। গন্তব্য ছিল টঙ্গী। তবে তারা টঙ্গীতে না গিয়ে পরে মিরপুরে এক বান্ধবীর বাসায় যান। এ ঘটনার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের শনাক্ত করে। তরুণীর বক্তব্য গ্রহণ করার পর তাকে টঙ্গী এলাকায় থাকা তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।