গাইবান্ধায় জামায়াত আমির
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ করতে হতো না
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৩ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৩
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,‘ যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে যদি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা ঠিকমতো সার পেতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করতে হতো না।’ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চৌমাথা মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের কর্মসূচি। মা-বোনেরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, জনগণ আর জুলুম সহ্য করতে পারছে না। ৮ দফা দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে ৮ দফা, ৯ দফা, ১০ দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে। ঢাকায় লংমার্চে অংশ নেওয়ার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার বলেছিল- ‘এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে’। কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে। তিনি সারের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।”
জামায়াত আমির বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মা-বোন ও শিশু সন্তান রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের অভিবাদন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। মা-বোনেরা রাস্তায় যখন নেমেছে, তখন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’
পথসভায় লংমার্চের ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এমপি।
পথসভায় এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ সুন্দরভাবে পরিচালিত হলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারত। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকত না, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। তিনি দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে রেকর্ড পরিমাণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের গাদ্দারি করা যাবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ‘ছলচাতুরি করে’ কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন করেছে। পাশাপাশি শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আবদুল্লাহ হাসনাত, এবি পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম এবং ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকে।
লংমার্চের রুটের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানান। পরে বহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।