ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজি ও ‘কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্বে হৃদয় খুন: পুলিশ

চাঁদাবাজি ও ‘কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্বে হৃদয় খুন: পুলিশ
×

মো. হৃদয় (১৬)

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৬

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে সবজির দোকান থেকে চাঁদাবাজি এবং একটি কিশোর গ্যাংয়ের ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্বের জেরে মো. হৃদয় (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

গত মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনির চার নম্বর গলিতে হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হৃদয় পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনির বাসিন্দা।

পুলিশের ভাষ্য, হৃদয় স্থানীয় ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। কয়েক দিন আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্যাংটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এর মধ্যে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বও ছিল। এসব বিরোধের জেরে হৃদয়কে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাত খাচ্ছিল হৃদয়। এ সময় এক যুবক তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে চিকিৎসকেরা জানান।

ওসি বলেন, হৃদয় তার বাবার সঙ্গে সড়কের পাশের ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত। সবজির দোকান থেকে চাঁদাবাজি এবং এলাকার কয়েকজন ‘সিনিয়র-জুনিয়র’-এর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এসব কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়সহ স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। উঠতি তরুণদের নিয়ে গঠিত ওই গ্যাংটি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন

×