চুয়েটে অচলাবস্থা, আলোচনায় সরকারি দলের নেতা
সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বুধবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: সমকাল
সারোয়ার সুমন ও ফাহিম রেজা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০৬
নজিরবিহীন এক আন্দোলনে ১০ দিন ধরে অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বাদ দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ করায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠে অচলাবস্থা চলছে।
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর পেছনে থাকা শিক্ষকদের দুটি অংশকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক অডিও কথোপকথনেও এই দুই জনপ্রতিনিধির প্রসঙ্গ এসেছে। নিয়োগ পাওয়ার আগে-পরে উভয় ভিসির তৎপরতাও ক্যাম্পাসের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার আভাস দিচ্ছে।
কোন ভিসি কার অনুসারী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, চুয়েটে অধ্যাপক সায়েমের ভিসি হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি এ ক্ষেত্রে সহায়তা পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।
শিক্ষকরা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চবির ভিসি অধ্যাপক আল ফোরকান নিয়োগ পাওয়ার পর এ পর্যন্ত বিশ্বিবদ্যালয়ের সাতটি অনুষ্ঠানে অতিথি করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীকে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু অতিথি হয়ে গেছেন মাত্র একটি অনুষ্ঠানে।
ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে চুয়েটে। সেখানে প্রাধান্য পেয়েছেন স্থানীয় এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু। ড. সায়েম চুয়েটের ভিসি হওয়ার পরপর গত ২ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ২৫ আগস্ট ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের সঙ্গেও চুয়েটের সাবেক ভিসি সাক্ষাৎ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। গত ১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পাসে যান অর্থমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল যাননি। ২২ আগস্ট চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন অর্থমন্ত্রীর ছেলে ও বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু।
বলয় তৈরি হচ্ছে ক্যাম্পাসে
মীর হেলাল ও গিয়াস কাদেরদের কেউই চুয়েট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি। কোনো দ্বন্দ্ব থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেননি তারা। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ভিসি নিয়োগে চট্টগ্রামের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততার প্রভাব পড়ছে ক্যাম্পাসে। তৈরি হয়েছে দুটি ধারা।
সদ্য সাবেক ভিসি ড. সায়েমের পক্ষে চুয়েটে সক্রিয় আছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবুল হোসেন ও রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবীর। অন্য শিক্ষকদের সংগঠিত করতে ও ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করতে তারা জুম মিটিংসহ নানা ফোরামে সক্রিয় আছেন।
তাদের এসব কর্মসূচিতে থাকছেন না মীর হেলাল অনুসারী শিক্ষকরা। তবে তারা চুয়েটসংলগ্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গিয়ে আলাদা বৈঠক করেছেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. আরাফাত রানা এর নেতৃত্বে রয়েছেন বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান। প্রোভিসি হওয়ার চেষ্টা করা এই শিক্ষকের সঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. তোফায়েল আহমেদ, পুরকৌশল বিভাগের ড. আফতাবুর রহমান, যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. মামুনুর রশীদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর ভৌমিক।
নতুন ভিসির পক্ষে কাজ করা অধ্যাপক আরাফাত রহমান রানা সমকালকে বলেন, ‘সরকার চুয়েটে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আছি। এর বিপক্ষে কোনো আন্দোলন কর্মসূচিকে সমর্থন করি না। কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিতও ছিলাম না। আমি মনে করি, এটা আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।’
অনুসারীদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আরাফাত রহমান বলেন, সমমনা শিক্ষকদের নিয়ে আড্ডা দিলে তাকে বৈঠক মনে করা সমীচীন নয়। আপনারা যারা সমমনা তারা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের অনুসারী কিনা– জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
শিক্ষকদের অডিও ক্লিপে দুই মন্ত্রীর নাম
জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির একটি অনলাইন সভার খণ্ডিত অডিও ক্লিপ এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। অডিও ক্লিপটিতে সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে অধ্যাপক আবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত হলো প্রফেসর বশির জিসান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রস্তাবিত একটি কমিটি আমির খসরু ও তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা বলবে। আরেকটি কমিটি মন্ত্রী এ্যানির সঙ্গে কথা বলবে।’
শিক্ষক সমিতির অডিও ক্লিপটিতে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষকদের আলাপ করতে শোনা যায়। নতুন ভিসির ক্যাম্পাসে আসাকে কীভাবে প্রতিহত করা যায়, সেটি নিয়েও কথা বলতে শোনা গেছে শিক্ষক নেতাদের। আলাপচারিতায় অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের দৌড় গেট পর্যন্ত। আর হল খালি করার ঘোষণা দেবে প্রভোস্টরা। এখন প্রভোস্টরাই তো কর্মবিরতিতে আছেন, তাইলে হল বন্ধ করবে কে?’
নতুন ভিসির চাওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানুল্লাহ বলেন, ‘উনি হল ভ্যাকেন্ট-এর পক্ষে। উনার ধারণা, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে গেছে। একশ অথবা দেড়শ শিক্ষার্থী এখানে আছে। হল ভ্যাকেন্ট করে দিলে ওরাও বাড়িতে চলে যাবে। কিছুদিন বা এক মাস পর ছাত্ররা আবার এলে তখন অটোমেটিক্যালি সবকিছু মেনে নেবে।’
তখন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন প্রশ্ন করেন, ছাত্ররা মেনে নিলেও কি আমরা মেনে নিচ্ছি? উনি এলে আমাদের কিছু যায়-আসে না। অডিওতে এর পরের কথোপকথনে অংশ নিয়েছেন আরও অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষক। তবে ফাঁস হওয়া অডিও আড়াই ঘণ্টার এক জরুরি সাধারণ সভার ‘খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন অংশ’ দাবি করে গণমাধ্যমে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
গিয়াস কাদের চৌধুরী যা বললেন
রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘চুয়েট নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। আমি সবাইকে বলেছি মুরব্বি হিসেবে খসরু ভাইয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে।’
এক প্রশ্নর জবাবে গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, ‘নিজের এলাকা রেখে কেউ যদি পরের এলাকায় খবরদারি করতে যায় সেটা তো মানা যায় না। এই চুয়েটের ভিত্তি তৈরি করেছে আমার দাদা। এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করেছে আমার বাবা। এটা রাউজানের স্থাপনা। এটি ঠিক মতো চলছে কিনা, সেটা দেখার দায়িত্বও তো আমার।’
মীর হেলাল যা বললেন
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘চুয়েটের ভিসি নিয়োগে আমার কারও প্রতি সমর্থন নেই। আমি কোনো পক্ষেও নেই। নতুন ভিসি আমার লোক– এমন কথা আপনার মুখ থেকেই প্রথম শুনলাম।’
শিক্ষকদের অডিওতে তাঁর নাম আসা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা শিক্ষকরাই ভালো বলতে পারবেন কেন আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তারা।’ তিনি বলেন, ‘চুয়েটের ভিসি নিয়ে সরকার একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেটাই সবার মানা উচিত বলে মনে করি। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না।’
মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। তাই বলে সরকারি সিদ্ধান্তকে যারা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, তারা ভালো করছেন না। কারণ যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার অনেক কিছু ভাবে। এটা নিয়ে দ্বিমত থাকলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সেটার সমাধান করা উচিত।’
অধ্যাপক সায়েমের প্রশংসা
চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে চুয়েটে যান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভিসি সায়েমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বলে খুব বেশি উৎসাহিত হয়েছি। তাঁর মধ্যে আমি দেখতে পাচ্ছি– তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে চাচ্ছেন, কিছু করতে চাচ্ছেন। একটা ইউনিভার্সিটিকে পরিবর্তন করার মতো আইডিয়া তাঁর আছে। ঢাকায় উপাচার্যদের সম্মেলনে আমি সাতটি প্রশ্ন করেছিলাম এবং তিনি এখানে অনেকটির উত্তর দিয়েছেন।’ এ সময় ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের। তিনিও ড. সায়েমের প্রশংসা করেন।
সার্কিট হাউসে ভিসি
২১ সেপ্টেম্বর সরকার অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের সাবেক প্রোভিসি ও ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। সাবেক ভিসি সায়েমের পক্ষে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একজন ভিসির জন্য এমন যুগপৎ আন্দোলনের ঘটনা চুয়েটে এবারই প্রথম।
আন্দোলনের তোপে ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না চুয়েটের অষ্টম উপাচার্য শরীফুল আলম। গত শনিবার অনলাইনে যোগদান করে চার দিন ধরে দাপ্তরিক কাজ করছেন তিনি নগরীর সার্কিট হাউসে বসে। চুয়েট থেকে সার্কিট হাউসের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার।
যা বললেন নতুন ও সাবেক ভিসি
সার্কিট হাউসে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক শরীফুল আলম বলেন, ‘একটা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমাকে সার্কিট হাউসে উঠতে হয়েছে। এখন দাপ্তরিক কাজ করছি। আশা করছি, চুয়েটের পরিস্থিতি শিগগির অনুকূলে চলে আসবে। তখন ক্যাম্পাসে গিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় চালাব।’
সাবেক ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার দুর্বলতা নেই। কোনো রাজনীতিবিদের প্রতিও নেই। ভিসি হওয়ার কারণে অনেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি, অতিথি করেছি। এতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ চলমান আন্দোলন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন ভিসির দাবি ভিত্তিহীন বলছে রেজিস্ট্রার কার্যালয়
নতুন ভিসি সার্কিট হাউসে বসে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করার যে দাবি করেছেন, সেটাকে ভিত্তিহীন বলছে রেজিস্ট্রার কার্যালয়। ভিসি ভবনে তালা থাকায় দাপ্তরিক সব কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। বিষয়টি জানতে চুয়েটের রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবীরকে একাধিকবার কল করা ও খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি।
তবে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার জানান, রেজিস্ট্রার নিজে নতুন ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। রেজিস্ট্রারের অগোচরে সার্কিট হাউসে গিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অন্য কারও নতুন ভিসির সঙ্গে দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা অবাস্তব।
ক্যাম্পাসে রাতভর পাহারা ও লাল কার্ড
নতুন ভিসির ক্যাম্পাসে আগমন ঠেকাতে রাতভর প্রধান ফটকে পাহারা বসিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আঁকছেন প্রতিবাদী গ্রাফিতি। দেখাচ্ছেন লাল কার্ডও। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন তারা। ভিসি পদে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ধীরে ধীরে তীব্র হয় আন্দোলন। শিক্ষক-কর্মকর্তারাও আন্দোলনে যোগ দেন।
নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল করার দাবিতে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। গতকালও অব্যাহত ছিল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
চুয়েটের সার্বিক বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ফোন করা হলে গত সোমবার তিনি বলেন, ‘আপনি পরে ফোন করেন। আমি কেবিনেট মিটিংয়ে আছি।’ পরে তিনি আর ফোন ধরেননি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়ও শিক্ষামন্ত্রীকে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন ধরেন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নুরুল আবছার দীপু। তিনি মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা শিবলী সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। শিবলী সাদিককে ফোন করলে তিনি জানান, মন্ত্রী মিটিংয়ে আছেন। এখন চুয়েট প্রসঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।