পানি কমলেও ফসলহানিতে কৃষকের আহাজারি
পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষতির চিহ্ন। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল ছবি-সমকাল
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের প্লাবিত এলাকাগুলোতে ভেসে উঠছে ক্ষতির চিহ্ন। উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে কৃষি খাতে। নদী তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের আটটি চরের প্রায় সাড় তিন হাজার বিঘার বেশি জমির ফসল তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এতে আনুমানিক ৬০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা কৃষি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে ক্ষতি নিরূপণের এ তথ্য জানিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। ফলে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর, দিয়াড় শংকরপুর, চাকলা বিনোদপুর, রসুলপুরসহ মোট আটটি চরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং এক হাজার ৩০০ কৃষকের জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়।
পদ্মার চরে ফসল হারিয়ে সর্বস্বান্ত কৃষকদের একজন বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের জমির আলী। আক্ষেপ করে তিনি জানান, পদ্মা নদীর ইলিশমারি চরে ১০ বিঘা জমিতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে কলার আবাদ করেছিলেন। গাছে কলা আসতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই আকস্মিক বন্যায় সব পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ১০ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে চাষ করতে হলে কোনো এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই।
একই এলাকার আরেক কৃষক মুনতাজ আলী জানান, এবার চরে তাঁর তিন বিঘা জমিতে চালকুমড়া এবং দুই বিঘা জমিতে পটোল ও মুলার ভালো ফলন হয়েছিল। হঠাৎ ঢলের পানিতে সব ফসল পচে গেছে, যার কারণে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। এখন কোনো সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন ফসল চাষ সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, গত ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পদ্মার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ৫০০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে ১১৬ বিঘা জমির ফসল। এতে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক হাজার ৩০০ কৃষক। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক গণনায় প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। চরাঞ্চলের কৃষকরা যেন এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেন, সে জন্য আগামী রবি মৌসুমে কোনো প্রণোদনা বা বিশেষ সরকারি সহায়তা এলে তা দ্রুত তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ক্ষতি পোষাতে বর্তমানে কৃষকদের আগাম জাতের শীতকালীন শাকসবজি চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’