আন্দোলন দশম দিনে চুয়েটে দাবি আদায়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিবাদী কনসার্ট
চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:৫০
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দশম দিনে গড়িয়েছে। এদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিবাদী আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও কনসার্টের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বিকাল ৩টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চুয়েটের হাউস অব ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার ক্লাবের উদ্যোগে দ্রোহের কবিতা আবৃত্তি করা হয়
এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শাটডাউন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ব্যবহারিক, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বেলা ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘প্রতিবাদী আলোকচিত্র প্রদর্শনী’র আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রতিবাদ ও ঘটনাপ্রবাহের ছবি এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপাচার্য কার্যালয়ে হয় প্রতিবাদী কনসার্ট। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্দোলনের দাবি তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজনে অংশ নেওয়া পুরকৌশল শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, ‘সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আমাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি চলছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে আগের ৯ দিনের আন্দোলনে আমাদের যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ফুটে উঠেছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতারও তীব্র সমালোচনা জানানো হচ্ছে। আমাদের সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, ‘উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক আন্দোলন চলমান রয়েছে। আমরা দেশবাসীকে দেখাতে চাই যে, আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলন শুধু স্লোগান, তালাবদ্ধ ভিসি ভবন বা শাটডাউনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা শিল্প, সংগীত ও কবিতার ভাষার মাধ্যমে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ অথচ জোরালোভাবে আমাদের অধিকার ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরছি। রাতের আঁধারে মশাল মিছিল থেকে শুরু করে কনসার্ট– সবকিছুই প্রমাণ করে যে দাবি আদায়ের প্রশ্নে পুরো চুয়েট এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই কনসার্ট থেকে একটাই বার্তা– বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মানব না, সায়েম স্যারকেই পুনরায় ভিসি হিসেবে চাই।’
আরেক শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহহিল গালিব বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের দাবি ছিল যৌক্তিক এবং আমাদের ধারণা প্রশাসন এই দাবির যথাযথ সমাধান করতে পারবে। তাই শুরু থেকেই জনদুর্ভোগ না করে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ১০ দিন পার হলেও চলমান এই আন্দোলনের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ আমরা দেখছি না। মূলত প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদে আমাদের আজকের প্রতিবাদ কনসার্ট। আমরা একটি বার্তা স্পষ্ট করতে চাই আমাদের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে চুয়েটের শিক্ষক আকিফ হোসেন খান বলেন, ‘দাবি আদায় হওয়ার আগপর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলমান থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির যেন দ্রুত সমাধান হয়, আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত এ পরিস্থিতির সমাধান হবে।’
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন।