রক্ষা বাঁধে ‘জোড়াতালি’র মেরামত
ভাঙন ঠেকাতে ২০০ মিটারের মধ্যে আখিরা নদী থেকে বালু তুলে তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত সমকাল
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের আখিরা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ ধসে পড়ার পর নদী থেকে বালু তুলে তা জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলার কারণে তীর ঘেঁষে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর ও আবাদি জমি ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ না হতে বাঁধের ব্লকের তিন ভাগ অংশ ধসে নদীতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া নিম্নমানের ইটের খোয়া বিছিয়ে কোথাও দেড় ইঞ্চি, কোথাও আড়াই ইঞ্চির ওপর সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল; যা সামান্য বৃষ্টির চাপে ভেঙে বসে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের মাত্র ২০০ মিটার দূরে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। নদী থেকে অবিরাম বালু তোলার ফলে নদীর গভীরতা বেড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘর তলিয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট শতাধিক ঘর যে কোনো সময় বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমরা দিনমজুর মানুষ। সরকারের দেওয়া এ আশ্রয়ণের ঘরই ছিল আমাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। এখন নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে।’ একই এলাকার বাসিন্দা রাসেদা বেগম বলেন, ‘দুই পরিবারের দুটি ঘরের অর্ধেক এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে। ঠিকাদারের লোকজন বাঁশ দিয়ে ঘর ঠেকিয়ে রেখে আশ্বাস দিচ্ছে ঘর আরও মজবুত হবে, কিন্তু বাস্তবে ভীতির রাজত্ব চলছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা কাফী মন্ডল ও আখতার জাহান বীথি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী থেকে বালু তুলে লোকদেখানো মেরামত করছে। কাওছার রহমান কাফী নামের এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ২০০ মিটার ব্লক পরপর দুবার ধসে পড়েছে। বালু ডাম্পিং না করে পানির ওপর নামমাত্র কাঠামোর কাজ করায় ব্লক ঢলে পড়ছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর একনেক বৈঠকে গৃহীত ‘রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ শুরু হয়। চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় আখিরা নদীর ৮০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। হাসিবুল হাসান নামে এক ঠিকাদার ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু করেন। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শুরু হয়েছে আরও পড়ে।
বর্তমানে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন রংপুরের ‘শুক্লা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ভরত প্রসাদ। তিনি বলেন, ব্লক বসানোর আগে সেখানে খাল খনন করা হয় এবং খননকৃত আলগা মাটি দিয়েই নদীর পাড় বাঁধা হয়েছিল। ফলে অতিরিক্ত বর্ষা ও প্রবল স্রোতে নদী তীরে ভাঙন ধরে এবং ব্লকের নিচের মাটি ধসে পড়ে। পাড়ে যে আলগা মাটি ছিল, তা আমাদের জানা ছিল না।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।
- বিষয় :
- বাঁধ