ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইজারা বাতিলের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রামে এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইজারা বাতিলের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির
×
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২৩

চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়ে কমিটি বলেছে, দাবি মানা না হলে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে জাতীয় সংলাপেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন কমিটির নেতারা।

কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এই অবকাঠামো নিয়ে প্রস্তাবটি ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কেন মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হলো না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ফজলুল কবির মিন্টু আরও বলেন, এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এটিকে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা জানান, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধিতা করেন না। তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটি জানায়, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

এ কারণে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রউফ লিটন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×