ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

‘২০ মিনিটের আগুনে সব শ্যাষ, অবশিষ্ট শুধু খুঁটি কয়ডা’

‘২০ মিনিটের আগুনে সব শ্যাষ, অবশিষ্ট শুধু খুঁটি কয়ডা’
×

আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই। অবশিষ্ট আছে শুধু খুঁটি। ছবিটি সোমবার দুপুরে কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে তোলা

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪১

‘গাঁয়ের উপরে ওপরতে আগুন পড়লে ঘুম ভাঙে যায়। তখন দাউ দাউ আগুন দেখে বউ-ছোয়াল নিয়ে কোনোমতো ঘরতে বাইরে দৌড় মারি। এরপর চেঁচামেচি শুনে লোকজন জলদি করে আসে, পানি ঢালে আগুন নিভালো। কিন্তু ততক্ষণে চাল, ডাল, মালামাল সব পুড়ে ছাই। মাত্র ২০ মিনিটের আগুনে সব শ্যাষ, অবশিষ্ট শুধু খুঁটি কয়ডা। এখন ক্যাম্বা কী করবনে, কিছু টের পাচ্ছিনে।’

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হাসান আলী (৩৫)। সোমবার ভোরে আগুনে তার ঘর ও ঘরে থাকা সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন স্ত্রী, পাঁচ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার।

হাসান আলী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী রেলপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর। নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। রেললাইনের পাশে টিনের ছাপরা ঘরে স্ত্রী নুপুর খাতুন, প্রতিবন্ধী ছেলে হোসেন আলী (৫) ও বৃদ্ধ মা ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

সোমবার ভোর চারটার দিকে ওই ঘরে আগুন লাগে। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর মধ্যেই ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, আসবাব, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানান।

হাসান আলী বলেন, ‘দিন আনতে পান্তা ফুরায়। কোনোমতে সংসার চলছিল। ২০ মিনিটের আগুনে আমার সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নতুন ঘর করার সামর্থ্য আমার নেই। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করে, তাহলে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারব।’

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে কয়েকটি টিনের খুপড়ি ও ছাপরা ঘর। সেখানেই ছিল হাসানের ঘর। ঘরের চারপাশে পোড়া গন্ধ। আগুনে পুড়ে গেছে ঘর ও আসবাবপত্র। দাঁড়িয়ে আছে শুধু কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি।

নুপুর খাতুন কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আগুন টের পেয়ে দৌড়ে জীবন বাঁচাইছি। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নাই। এখন সকলে মিলে যদি ঘরটা করে দিত, তাহলে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।’

হাসানের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘চারডে মানুষের কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল কিছুই নাই। মানসে কয়ড়া খাবার দিছে, তাই সকালে খাইছি। সরকার যদি একটু দেখত, তাহলে বাঁচতাম।’

প্রতিবেশী শিখা খাতুন বলেন, আগুনে শুধু একটি ঘর নয়, একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়ও পুড়ে গেছে। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আগুনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে পরিবারটিকে শুকনা খাবার দেওয়া হবে। লিখিত আবেদন পেলে বরাদ্দ পাওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে সরকারি সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×