ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় আসামি ‘বুলেট শিবলু গ্রেপ্তার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় আসামি ‘বুলেট শিবলু গ্রেপ্তার
×

মো. শিবলু

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:২১

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আলোচনায় আসা মো. শিবলু ওরফে ‘বুলেট শিবলু’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সময় শিবলুর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিবলু (২৮) উপজেলার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ছাত্রদল নেতা জিয়াউল হক জোনাইদ। মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই মামলায় শিবলু ৬৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। এ ছাড়া আনোয়ারায় এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর দুই দফা হামলার ঘটনায় করা মামলায়ও শিবলুকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরে এলাকায় ফিরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবলু প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেন না। রাত হলেই শিবলু ও তাঁর সহযোগীদের নানা কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়তেন। 

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার শিবলুর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। 

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্য কোনো থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিনা, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×