ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নগর ভবনে পুলিশের অভিযানে মেয়রের ‘হস্তক্ষেপ’

বগা সন্ত্রাসী নন, জুলাইযোদ্ধা দাবি চসিক মেয়রের

বগা সন্ত্রাসী নন, জুলাইযোদ্ধা দাবি চসিক মেয়রের
×
×

ওয়াকিল হোসেন বগা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১০ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নগর ভবনে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মেয়রের হস্তক্ষেপে বগা গ্রেপ্তার এড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তবে মেয়র শাহাদাত হোসেনের দাবি, ওয়াকিল সন্ত্রাসী নন। গত মঙ্গলবার রাতে অভিযানের সময় নগর ভবনে ছিলেন না তিনি। 

বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মেয়র শাহাদাতের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ভবনে ঢোকার পর মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর অভিযান গুটিয়ে ফিরে যায় পুলিশ। 

ঘটনার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে নগরের ২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল– এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকা আবদুর রহিম গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন! খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত গ্রেপ্তার অভিযান হয়নি। সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।’ মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, কামরুলকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন। 

এদিকে, মেয়রের এমন বক্তব্যের পর গতকাল সন্ধ্যায় খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। 

আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছে। একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। 

আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় বদলি করা হলো খুলশীর ওসি আবদুর রহিমকে। 
এদিকে নগর ভবনে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা নগর ভবন এলাকায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন নগর ভবনে ছিলেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসী বগা যদি নগর ভবনে নাই থাকেন, তাহলে সেখানে অভিযান কেন? আবার মেয়রইবা কেন পুলিশের অভিযানে হস্তক্ষেপ করলেন?

রাত ৯টায় নগর ভবনে পুলিশ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগর ভবন ঘেরাও করে পুলিশ। পরে বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভবনের ভেতরে ঢোকে। এক পর্যায়ে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সিএমপির (উত্তর) উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন ঘটনাস্থলে যান। মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযানের বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা ওই এলাকায় অবস্থান করছে– এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পরে তাঁকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। 

মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থলে মেয়রের উপস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে মেয়রকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ত কাউকে খবর দেইনি, কেন এসেছেন আপনারা। কী জন্য আসছেন? সিটি করপোরেশনে ১০০ জন মানুষ আসবে। আপনারা চলে যান।’

ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, নগর ভবন থেকে পুলিশ বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়রের অনুসারীদের ধাক্কাধাক্কি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

×