বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ তিন গভীর নলকূপ, ২ দপ্তরে ঘুরছেন কৃষক
সেচ দিতে না পারায় শুকিয়ে যাচ্ছে আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের ধানগাছ। গত বুধবার তোলা সমকাল
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুঁটিতে আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলছে এই অবস্থা। এতে বন্ধ রয়েছে তিনটি গভীর নলকূপ। পল্লী বিদ্যুৎ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কার্যালয়ে কৃষকরা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সংযোগ সচল হয়নি। ফলে সেচের অভাবে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের তিনটি স্কিমের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকশ কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কৃষক ও গভীর নলকূপ মালিকদের অভিযোগ, এক দপ্তরে গেলে তাদের অন্য দপ্তরে যেতে বলা হয়। কোনো দপ্তরই সংযোগ সচল করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে গেছে। কোথাও ধানের গোছা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সেচের জন্য স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো বন্ধ পড়ে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমে বৃষ্টির ওপর ধানের আবাদ অনেকটা নির্ভরশীল। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ওই মাঠের প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে সেচের প্রধান উৎস তিনটি গভীর নলকূপ। কিন্তু নলকূপ মালিকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কৃষকরা জানান, ধান চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের পেছনে ইতোমধ্যে তাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন শুধু সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হবে। তারা বলছেন, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগার পর প্রায় পাঁচ মাসেও সংযোগ পুনঃস্থাপন না হওয়ায় তারা একদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে আমন উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
ওই মাঠে এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, সেচ দিতে না পারায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানও শুকিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে এসে সেচের ব্যবস্থা না হলে তাঁর পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, ধানের জমিতে এখন পানি খুব প্রয়োজন। নলকূপ বন্ধ থাকায় আমরা সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। কয়েক দিন এভাবে চললে ধানের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
মাঠের গভীর নলকূপের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে বোরো মৌসুমের শেষ দিকে শর্টসার্কিট থেকে একটি খুঁটিতে আগুন লাগে। ওই লাইন থেকেই তাঁর দুটি এবং পাশের আরেকটি স্কিমের গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আগুন লাগার পর তিনটি নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তখন সেচের প্রয়োজন না থাকায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এর পর গত জুন মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিকার মেলেনি। একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বরেন্দ্র অফিসে যেতে বলা হয়। আবার বরেন্দ্র অফিসে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। দুই দপ্তরের মধ্যে এভাবে ঘুরতে ঘুরতেই গত প্রায় তিন মাস কেটে গেছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, এখন আমন ধানে সেচের সময়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমি এই তিনটি নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পানি না পাওয়ায় কৃষকরা বিপদে পড়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আজই (গতকাল) জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে। আমরা সরেজমিন মাঠ পরিদর্শন করব। আশা করছি, দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আক্কেলপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী সরদার বলেন, ঘটনাটি আমি দুদিন আগে জেনেছি। বিষয়টি জানার পরই গভীর নলকূপগুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি। ইতোমধ্যে সংযোগ চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহমান সরকার বলেন, ইরি মৌসুমের শেষের দিকে তারা একটি দায়সারা অভিযোগ দিয়ে চলে যান। পরবর্তী সময় তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। সম্প্রতি আবার অফিসে আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট থেকে একটি কাঠের খুঁটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ চালু করা হবে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎ সরবরাহ