ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করলে ইমান হারাবেন: ফরহাদ মজহার 

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় কৃষক সমাবেশ

কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করলে ইমান হারাবেন: ফরহাদ মজহার 
×
×

পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষক সমাবেশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪৭ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৫২

কৃষকদের উদ্দেশে কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। আল্লাহকে যদি না মানেন, যদি কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করেন তাহলে ইমান হারাবেন।’ পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় রোববার দুপুরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে আগামী দিনের বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সরকার পরিচালিত হচ্ছে কোম্পানির ইশারায়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা না গেলে কৃষি ব্যবস্থাপনা এগুবে না।’ 

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে বীজ কোম্পানির আগ্রাসন কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা ভোট চায় তারা কৃষির কথা ভাবে না, কোম্পানির হাতে জিম্মি তারা। কোম্পানির দেওয়া সার ও বিষ ব্যবহার করার মানে জীব হত্যা করা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সরকারও ফতুর হয়ে যাবে। বাঁচতে চাইলে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দেশি জাত রক্ষা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

আধুনিক কৃষির নামে সার-কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: ফরিদা আখতার
ঈশ্বরদী উবিনীগ ও নয়া কৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাড়লপাড়া গ্রামে কৃষক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষির নামে গ্রামে সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হার্টব্লকসহ জটিল রোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রাণিসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষকে সুস্থ্য থাকতে হলে সার কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের সাথে সাথে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।

উবিনীগ ঈশ্বরদী আঞ্চরিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজমিরা খাতুনের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস শিমু, উবিনীগ ঈশ্বরদী শাখার গবেষক গোলাম মোস্তফা রনি, আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হোসাইন, চাটমোহর উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার আসলাম হোসাইন, কৃষক আকলিমা খাতুন, মুজদার আলী, রেজিয়া খাতুন, আবুল হোসেন, ফরিদা খাতুন, সানোয়ারা খাতুন, হাফিজুর রহমান, মরিয়ম বেগম, জান্নাতুল খাতুন, রীনা খাতুন প্রমুখ।

কৃষক সমাবেশে কয়েকশ’ কৃষক ও নারী কৃষকরা অংশ নেন। রাসায়নিক সার ও কীনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফসল আবাদ করে সফল কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বাজারে অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে আমার উৎপাদন করা সার-বিষমুক্ত নির্ভেজাল শাকসবজি স্থানীয় হাট-বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। এতে আমি নিজে যেমন লাভবান হই তেমনি ভোক্তারা সার-বিষমুক্ত শাক সবজি খাওয়ার সুযোগ পান।

কৃষকের মেয়ে জান্নাতুল খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই কৃষক। তারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে জমিতে সার-বিষ প্রয়োগ ছাড়াই ফসল উৎপাদন করেন।  একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে আমি এতে গর্ব অনুভব করি। পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার খেয়ে সুস্থ্য থাকার সুযোগ পাই।’    

আরও পড়ুন

×