শারজাহে অগ্নিকাণ্ড
ধোঁয়ায় থেমে গেল রাউজানের আবু জাহেদের পথচলা
মোহাম্মদ আবু জাহেদ
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪৬
দুই মেয়েকে ঘিরে কত স্বপ্ন ছিল মোহাম্মদ আবু জাহেদের। প্রবাসে ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করতেন, যাতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটে, মেয়েদের ভবিষ্যৎ হয় নিরাপদ। প্রায় দুই দশক ধরে কাটিয়েছেন প্রবাসের ব্যস্ত জীবন। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে এক অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া থামিয়ে দিল তাঁর জীবনের পথচলা।
আবু জাহেদের (৪৮) বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামে। বাবাবে হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দুই মেয়ে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শারজাহে নিজের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন আবু জাহেদ। পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আজ রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা পান সেই দুঃসংবাদ।
আবু জাহেদ ছিলেন তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। রাউজান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন রানার ছোট বোনের স্বামী ছিলেন তিনি।
আজ বেলা দুইটার দিকে আবু জাহেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন নেজাম উদ্দিন রানা। তিনি জানান, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কফিন দেশে পৌঁছাতে পারে।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রাউজান কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ২০০৩ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান আবু জাহেদ। সেখানে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মীর কাজ করতেন। প্রবাসে কাজের পাশাপাশি রাউজান উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের জন্য সচ্ছলতা আনার চেষ্টা ছিল তাঁর।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে সর্বশেষ গত বছর দেশে এসেছিলেন আবু জাহেদ। ছুটি শেষে সেই বছরের সেপ্টেম্বরে আবার ফিরে যান কর্মস্থলে। তখন কি জানতেন, প্রিয়জনদের ছেড়ে এই ফিরে যাওয়াই হবে তাঁর জীবনের শেষ প্রবাসযাত্রা? স্বজনদের কাছে এখন এই প্রশ্নের উত্তর নেই; আছে শুধু আকস্মিক মৃত্যুর শোক আর প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শূন্যতা।
আবু জাহেদের দুই মেয়ে জেরিন আক্তার (১০) ও আফরিন আক্তার (৩)। যে বাবার পরিশ্রমে তাদের বেড়ে ওঠা ও ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বাবাই আর ফিরবেন না। ছোট্ট দুই শিশুর কাছে বাবার অনুপস্থিতি কতটা গভীর হয়ে উঠবে, তা হয়তো এখনই বোঝার বয়স হয়নি ওদের। কিন্তু পরিবারের জন্য তাঁর উপার্জন, স্নেহ আর নিরাপত্তার জায়গাটি যে শূন্য হয়ে গেল, তার ভার বইতে হবে স্বজনদেরই।
দূর প্রবাসে উপার্জন করতে গিয়ে আবু জাহেদের জীবন থেমে গেল আকস্মিক এক দুর্ঘটনায়। তাঁর মৃত্যুর শোক এখন শুধু স্বজনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; শোক জানিয়েছেন রাউজান প্রেস ক্লাব, রাউজান মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তবে পরিবারের কাছে এই শোকের সঙ্গে মিশে আছে আরও কঠিন বাস্তবতা—প্রিয় মানুষটির আর ফিরে না আসা এবং তাঁর রেখে যাওয়া দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- দুবাই
- অগ্নিকাণ্ড
- মৃত্যু