ভাই-বোনের জমি নিয়ে বিরোধে জানাজা ছাড়াই ফিরলেন মুসল্লিরা
ছবি: সমকাল
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:২১ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:২১
সোমবার ছিল জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। কাকতালীয়ভাবে এই বিশেষ দিনেই বাবার মরদেহ দাফনে মেয়ের বাঁধাদানের এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। জীবিত থাকাকালে প্রাপ্যতা অনুযায়ী নিজের অংশের জমি লিখে না দেওয়ার অভিযোগে বাবা মারা যাওয়ার ২৫ ঘণ্টা অতিক্রম করলেও শেষ বিদায় পাননি। এমনকি উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও মুসল্লিরা জানাজা না পড়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন ৭৫ বছর বয়সী নাজিমউদ্দিন মিয়া। রোববার বিকেলে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরদিন সকাল ১০টায় তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। সময় অনুযায়ী শেষ বিদায় জানাতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সারিবদ্ধভাবে জানাজায় দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু ঠিক তখনই বাঁধার সৃষ্টি করেন মরহুমের একমাত্র মেয়ে হালিমা বেগম।
হালিমা বেগমের সাফ দাবি–বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে অংশসূত্রে তাঁর প্রাপ্য জমি না দেওয়া পর্যন্ত কোনো জানাজা বা দাফন হতে দেওয়া হবে না। নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে হালিমা বেগম জানান, তাঁরা এক ভাই ও এক বোন। সে হিসেবে তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে অন্তত ৩৭ শতাংশ জমি পাবেন। কিন্তু বাবা অসুস্থ থাকায় তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী সুকৌশলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে সমস্ত জমি নিজের নামে দলিল করে নেন।
হালিমা বলেন, ‘পৈতৃক সূত্রে আমার প্রাপ্য জমি লিখে না দেওয়া পর্যন্ত আমি বাবার লাশ দাফন করতে দেব না।’
অন্যদিকে ছেলে ইদ্রিস আলী জানান, তিনি বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় সব জমি তাঁর নামে লিখে দিয়েছেন। ফলে তাঁর বোন কোনো অংশ পাবেন না এবং তিনিও বোনকে কোনো জমি দেবেন না। জমি না দিলে বাবার লাশ এভাবে পড়ে থাকবে কি না–সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অনমনীয় ইদ্রিস আলী বলেন, ‘যেহেতু বোন বাধা দিয়েছে, তাই লাশ পড়ে থাকলেও আমার করার কিছু নেই। তাতে মরদেহ পচে-শুকিয়ে কাঠ হলেও আমি কিছু করব না।’
জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘মরদেহ সামনে রেখে দুই ভাই-বোনকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কেউই কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে আগত মুসল্লিরা জানাজা না করেই ফিরে গেছেন।’
সাদুল্লাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত জানান, খবর পেয়েই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম জানান, ‘সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’