সন্দ্বীপ চ্যানেলে অভিযান চালিয়ে সাত টন মা ইলিশ জব্দ
ছবি: সমকাল
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৩৩ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৩৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে সাত টন মা ইলিশ ও এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চারটি মাছ ধরার নৌকা আটক এবং নৌকাগুলোর মালিকদের মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইলিশের বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য কার্যালয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহর নেতৃত্বে রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বাধীন দল।
মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে জেলেদের জীবিকা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে চালসহ বিকল্প আয়বর্ধক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলা থেকে আসা কয়েকটি নৌকা সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল বলে খবর পায় মৎস্য বিভাগ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে নৌকায় থাকা জেলেরা অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে মৎস্য কার্যালয়। একপর্যায়ে তারা নৌকা থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চারটি নৌকা ও জেলেদের আটক করা হয়।
অভিযানে নৌকাগুলো থেকে প্রায় সাত টন ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। মৎস্য কার্যালয়ের হিসাবে, মাছগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিটি নিষিদ্ধ সময়কে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।