বাকৃবিতে সেমিনার
মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে ডিম
বিশ্ব ডিম দিবসের র্যালি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫৬
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, কোলিনসহ দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বহু পুষ্টি উপাদান। দৈনিক খাদ্যাভ্যাসে ডিম রাখলে তা শুধু কর্মক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মানসিক চাপ কমানো, স্থূলতা প্রতিরোধ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে সোমবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানান বক্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে বাকৃবির পোলট্রি সায়েন্স বিভাগ এবং ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ডব্লিউপিএসএ-বিবি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বাপন দে বলেন, ডিমকে একটি সম্পূর্ণ বা সুষম খাদ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ডিমের প্রোটিনের গুণগত মান ৯৪, যা পুষ্টিবিজ্ঞানে স্ট্যান্ডার্ড প্রোটিন হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকা কোলিন উপাদানটি মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেহের সার্বিক পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখে। এমনকি প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে (চারটি পর্যন্ত) ডিম খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিমের কুসুমে থাকা জিয়াজ্যানথিন দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। সারাবিশ্বে প্রতি বছর ১০ কোটি টন ডিম উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এশিয়া থেকে। গবাদিপশু ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০৯ কোটি। বর্তমানে দেশে বার্ষিক চাহিদার (১০৪টি) তুলনায় জনপ্রতি প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টিতে। তবে বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে ডিমের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।
ডিমের কুসুম বর্জন করার কুসংস্কার নিয়ে সতর্ক করে ড. বাপন দে বলেন, অনেকে কোলেস্টেরলের ভয়ে কুসুম বাদ দেন, যা ভুল ধারণা। ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিমের সাদা অংশের পাশাপাশি কুসুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান বলেন, মানুষের মাঝে ডিমের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বোঝানোর কিছু নেই; কারণ প্রতিদিন দেশে প্রায় ৬ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। বাজারমূল্য বাড়লে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে। তাই ডিমের সঠিক সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি মুরগির খাবারের (ফিড) দাম কমাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান ও ডব্লিউপিএসএ বাংলাদেশ শাখার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান, ডব্লিউপিএসএ বাংলাদেশ শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সিরাজুল হক, পোল্ট্রি কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের সিইও মো. রফিকুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান।