ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কারিগরি খাতে জনবল সংকট ভোগান্তিতে ৪৫ হাজার গ্রাহক

কারিগরি খাতে জনবল সংকট ভোগান্তিতে ৪৫ হাজার গ্রাহক
×
×

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জরুরি কাজের জন্য স্থায়ী লাইনম্যান নেই। নেই ফোরম্যানও। ইলেকট্রিশিয়ানের সব কয়টি পদ শূন্য। কাগজে-কলমে স্থায়ী লাইনম্যান আছেন মাত্র একজন। বিদ্যুৎ লাইনের সাহায্যকারীর পদেও জনবল সংকট। নেই নিরাপত্তা প্রহরী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

এমনই জনবল সংকট সঙ্গী করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (বিউবো) কার্যক্রম। যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ৪৫ হাজার গ্রাহক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমএলএস পদেও রয়েছে শূন্যতা। এভাবেই বছরের পর বছর পার হচ্ছে। সংকট সমাধানে পদক্ষেপের কথা বললেই শোনা যায়– হচ্ছে, হবে। জনবল সংকটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর নিয়মিত বার্তা পাঠানো হলেও মিলছে না সমাধান।

এমন জটিল পরিস্থিতির মাঝে উপজেলার প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক নিয়ে চলছে ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যক্রম। জনবল সংকট থাকায় উপজেলাসহ পাশের আরও দুটি উপজেলা দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎসেবা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের অধীনে প্রায় ৪৫ হাজার ৩০০ বিদ্যুৎ গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ কার্যালয়টির কার্যক্রম চলছে মূলত জোড়াতালি দিয়ে। কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদের সর্বমোট অনুমেদিত সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদটি শূন্য। এখানে উপসহকারী প্রকৌশলী চারটি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র একজন।

শুধু তাই নয়; সংকটের এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। উচ্চমান সহকারী ও হিসাব সহকারীর পদও শূন্য। নিম্নমান সহকারীর চারটি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক দুটি পদের মধ্যে একটি শূন্য। মিটার পাঠক চারজনের একজনও নেই। স্টোর কিপার এবং অভিযোগ গ্রহণকারীও নেই। এসবিএর ১৮টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন।
কার্যালয়ে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে তিনটি গাড়ি থাকলেও কোনো স্থায়ী চালক নেই। ফোরম্যান ও তিনটি ক্যাটেগরির লাইনম্যানের ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনে সাহায্যকারী ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এমএলএসএস কাম গার্ডের ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। নিরাপত্তা প্রহরীর ১৩টি পদের চারটি শূন্য।
ছাতক উপজেলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলো পূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এই বিষয়ে কারও যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই।

লোকবল স্বল্পতার কারণে বাধ্য হয়ে অদক্ষ ও অস্থায়ী দৈনিক মজুরির চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করানো হচ্ছে। যার ফলে বিদ্যুৎ লাইনে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে প্রায় সময় শ্রমিকরা দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সেবা দিতে লাইনম্যান স্বল্পতার কারণে যে কোনো কাজ এসব অস্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে করাতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকাও ব্যয় করতে হচ্ছে।

ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে ছাতক উপজেলা ও ছাতক ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র থেকে ১৩২ কেভি সার্কিটের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ছাতক উপজেলা লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসহ ছোট-বড় বিভিন্ন স্থাপনা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও কলকারখানা রয়েছে।

বিশাল ভৌগলিক আয়তনে খাল-বিল ও হাওরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে ছাতকে। বিশেষ করে, ঝড়-তুফানের সময় বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। জনবল সংকটের কারণে এসব লাইন মেরামতে দীর্ঘ সময়ের পাশাপাশি চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।
ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ তারেক জানিয়েছেন, এখানে জনবল স্বল্পতায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। এ নিয়ে বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয়ে বলা হয়েছে। বর্তমানে বড় একটি বিদ্যুৎ বিভাগের একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এটি সম্পন্ন হলে জনবল সংকট অনেকটা কমে যাবে।

আরও পড়ুন

×