সড়কের কাজে ‘নয়ছয়’
চিঠি দেওয়ার ১৮ দিন পরও সরেনি নিম্নমানের খোয়া
ছবি: সমকাল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:৫৩
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণের জন্য লিখিত নির্দেশ দেওয়ার ১৮ দিন পার হলেও তা মানেনি ঠিকাদার। উল্টো প্রাক্কলনবহির্ভূত খোয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আরআইডিপি–২) আওতায় উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ফুলবেড়া স্কুল থেকে নয়ারহাট পর্যন্ত (১৮০‑১৬৫০ কিমি.) সড়ক পাকাকরণ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় গাইবান্ধা সদরের বাদিয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এসএম ট্রেডার্স’।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকে কাজের গুণগত মান বজায় না রেখে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিল। এলাকাবাসীর লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. এমরান আলী সরেজমিন কাজের সাইট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকালে তারা সড়কের ডাব্লিউবিএম স্তরের জন্য স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও নিম্নমানের খোয়া মজুত দেখতে পান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এসএম ট্রেডার্সকে পাঠানো এক নথিতে অবিলম্বে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ এবং ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, নির্দেশ অমান্য করে কাজ করলে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না এবং উদ্ভূত জটিলতার দায় ঠিকাদারকে বহন করতে হবে।
চিঠি দেওয়ার ১৮ দিন পার হলেও সরেজমিন গতকাল রোববার সকালে দেখা যায়, বিতর্কিত সেই নিম্নমানের খোয়া সড়ক থেকে সরাননি ঠিকাদার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএম ট্রেডার্স কাজটি না করে চড়া দামে তা স্থানীয় সাব-ঠিকাদার ফিরোজ কবিরের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার ফিরোজ কবির দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘কাজটি আমিই করছি এবং উপজেলার অন্যান্য কাজের চেয়ে এখানে ভালো মানের খোয়া দেওয়া হচ্ছে।’ কিছু খোয়া ইতোমধ্যে সরানোর দাবি করে তিনি প্রকৌশল দপ্তরের তদারকি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অফিস থেকে বেশি চাপ সৃষ্টি করলে আমি কাজই করব না।’
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরিদর্শন শেষে আমরা ঠিকাদারকে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি যেন নিম্নমানের খোয়া দ্রুত অপসারণ করে মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়। সরকারি নিয়ম ভেঙে নিম্নমানের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই; বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- গোবিন্দগঞ্জ
- সড়ক