ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান দুশ্চিন্তায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী

শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান দুশ্চিন্তায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী
×
×

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১৪টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং শারীরিক শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা থেকে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ ও ভবিষ্যতের ওপর ফেলে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিম তাসফিয়া, সানজিদা আক্তার, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফসা আক্তার ও বৃষ্টি আক্তার জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাঠের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইংরেজি ও বিজ্ঞান ও আইসিটির শিক্ষক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানায় তারা। 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ওপরও প্রভাব পড়ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানো বা গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিভাবক শাহানাজ পারভীন, মো. আবুল কালাম ও মো. আলাউদ্দিন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে এসএসসি ও বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ক্লাস ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অপর একটি বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাসা ভাণ্ডারিয়া বাজারে। আমার মেয়ে খেয়া নৌকায় খরস্রোতা পোনা নদী পারাপার হয়ে থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে। শিক্ষক সংকটে কারণে আমি বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে ভয় পাচ্ছি। 
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাসের বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শূন্য পদের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
 

আরও পড়ুন

×