ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে

চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে
×
×

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুটের প্রতি কেজিতে তিন টাকা চাঁদা দাবি, না দিলে মালপত্র আটকে রাখা, ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের মারধর– এমনই একাধিক অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তুষার খান ও    তার ভাই ইশতিয়াক খানের বিরুদ্ধ। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের দাবি, শুধু চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের ঝুট পরিবহনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। 
সর্বশেষ ট্রাকচালকের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় তুষার ও তাঁর ভাইসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তুষার খান। 

গাজীপুরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগকারী মজিবুর রহমানের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুর রহীম নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিষ্ঠানটির ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ওই নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুষার খান সেখানে ঝুট ব্যবসা করতেন। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সঙ্গে তুষারের কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি ছিল না। 
মজিবুর রহমান জানান, ২০১৩ সালে শরীফপুর এলাকায় নিজের জমিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাছে ভাড়া দেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর নিজে ঝুট ব্যবসা বুঝে নিতে উদ্যোগী হলে বাধার মুখে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, এরপর বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তুষার খান। ঝামেলা না করার অনুরোধ জানালেও প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালপত্র আটকে রাখা হয়েছে।

মজিবুরের অভিযোগ, একটি সিসিটিভি ফুটেজে তুষার খানকে দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁর। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা তাদের নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ঝুট পরিবহনের জন্য শ্রমিকসহ একটি ট্রাক পাঠানো হলে গাছার মালেকের বাড়ি রোডে সেটির গতিরোধ করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর দুদিন পর, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুট নিতে শ্রমিকসহ আরেকটি ট্রাক পাঠানো হয়। সকাল ১০টার দিকে মালেকের বাড়ি রোডে তুষার খান ও ইশতিয়াক খানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জন ট্রাকটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 
এ সময় ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালকের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রাকটি এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন মজিবুর রহমান। 
তাঁর দাবি, এভাবে বাধা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তুষার খান বলেন, আমার ব্যবসা করার লাইসেন্স আছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। মজিবুর রহমানের অভিযোগ সত্য      নয়। চাঁদা দাবির সঙ্গত কোনো কারণও নেই। নিজের ইচ্ছামতো অভিযোগ করেছেন।         চাঁদা দাবি, হামলা বা মারধরের একটা প্রমাণও তিনি দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তদন্ত করেছি। দুই পক্ষের মধ্যে ঝুট নিয়ে ঝামেলা চলছে। তাদের ঝামেলা মীমাংসার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×