আহতদের আর্তনাদে ভাঙে ভোরের নিস্তব্ধতা, এতগুলো মৃত্যু দেখে বাকরুদ্ধ স্থানীয়রা
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪
নাটোরে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০০ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়েছে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ। সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো মৃত্যু দেখে স্থানীয়দের মাঝে শোক বিরাজ করছে।
ভোরের আলো ফোটার আগে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান আশপাশের লোকজন। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহনের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তারা। আহতদের আর্তনাদে ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙে তাদের। হতাহতদের খোঁজে ছোটাছুটিতে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদা পারভীন বলেন, ‘ভোরে খুব জোরে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। সেখানে গিয়ে দেখি, ভেতরে যাত্রীদের কেউ কেউ কাতরাচ্ছেন। কোনো কোনো যাত্রীর শব্দ নেই। সবাই মিলে তাদের বাস থেকে বের করে বাইরে রাখি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা বাসের ভেতরেই ৯ জনকে মৃত দেখেছি।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর নাটোর জেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, সড়কে এভাবে একের পর এক প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত এবং মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বড়াইগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সরকার পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।ঘটনাটি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, নিহতদের সড়ক আইনে সহায়তা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি ঘটনা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, সড়কটি সরু। নিহতদের উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করার পর মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে হুইপ সাংবাদিকদের বলেন, সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- শরীয়পুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার শালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জাজিরা এলাকার আরোব আলী ফকিরের ছেলে সামাদ ফকির (৭০) ও ফরিদপুরের বাকুন্দা এলাকার অমুল্য চন্দ্রের ছেলে হিমেস (২৮)।
- বিষয় :
- বড়াইগ্রাম
- সড়ক দুর্ঘটনা
- মৃত্যু
- শোক