ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সোনারগাঁওয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আ'লীগ-জাপার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

সোনারগাঁওয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আ'লীগ-জাপার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
×

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:১৮ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:১৮

সোনারগাঁয়ে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মাইকে দেরিতে নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে পুলিশ ও এমপি খোকার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজের আয়োজন করে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান সকাল ৯টায় শুরু হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় বিজয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহনকারীদের সালাম গ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান ও থানার ওসি মনিরুজ্জামান।

এদিকে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, মোগরাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে মঞ্চে বসেন। এ সময় মাইকে তাদের আগমনের বিষয়টি ঘোষণার জন্য অনুষ্ঠানের সঞ্চালক উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হাবিবকে অনুরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে সঞ্চালক ইয়াছিনুল হাবিব তাদের নাম বলতে গড়িমসি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম সঞ্চালককে নাম ঘোষণা না করার কারণ জানতে চান। ওই সময়ে মঞ্চে বসে থাকা কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নেতা আজিজুল ইসলাম বাদল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কথার প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এরই জেরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে কয়েকজন সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, সঞ্চালক তার মনগড়া মতো সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেননি। অনেককেই সঞ্চালককে এড়িয়ে গেছেন। এ অপ্রতিকর ঘটনার জন্য সঞ্চালকই দায়ী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও উপজেলা যুব উন্নয়র কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হাবিব বলেন, আমি কুচকাওয়াজে স্কুল শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণায় ব্যস্ত থাকায় তাদের নাম ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, নেতাকর্মীদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুর রহমান খান বলেন, ভুল বোঝাবুঝিতে এ অপ্রতীকর ঘটনা ঘটেছে। এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×