ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে হামলা-সংঘর্ষ

বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে হামলা-সংঘর্ষ
×

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে- সমকাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩১ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৪

বিজয় দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির র‌্যালিতে সন্ত্রাসী হামলা ও পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পাবনার সাঁথিয়ায় বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা এ হামলা করে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করলেও সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে নেত্রকোনার বারহাট্টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে উপজেলা বিএনপি। তবে এ অভিযোগ অস্ব্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুই বিএনপি কর্মীকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি ও যুবলীগ নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পাবনা : সাঁথিয়া পৌর কার্যালয় থেকে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ সিদ্দিকুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমানের নেতৃত্বে সোমবার বিজয় র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বোয়াইলমারী কামিল মাদ্রাসা ঘুরে সকাল সোমবার ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট হয়ে ফিরে আসার সময় মাদ্রাসা মার্কেট থেকে কিছু ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ছয় নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা হলেন- পৌর বিএনপির ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সম্পাদক মোতালেব হোসেন, বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন, ইউনুছ আলী, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক আশিক ইকবাল রাসেল, জাহিদুজ্জামান রিপন ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মিরাজুল ইসলাম।

ভিপি শামসুর রহমান ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ বিজয় র‌্যালিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।

পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি বিএনপির এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটা স্রেফ মিথ্যাচার।

চট্টগ্রাম : বিজয় দিবসে চট্টগ্রামের পটিয়ায় শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম-কপবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌর সদরের মুন্সেফবাজার এলাকায় এ ঘটনায় মহাসড়কের উভয় পাশের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় জাহাঙ্গীর ও জসিম নামে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করা হয়। তবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে প্রায় আধঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা বিএনপির নেত্রী ও সাবেক উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি জানান, 'আমরা সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার ঘোষণা দিলে পুলিশ ওই বিএনপি কর্মীকে ছেড়ে দেয়।' পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জব্বারুল ইসলাম জানান, বিএনপি পুলিশকে দেখে ভিডিও করে এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। তাই ব্যানার নিয়ে নেওয়া হয়।

সিলেট : সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের সময় স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিএনপি ও যুবলীগের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো গেছে।

সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি ও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করায় তারা প্রতিবাদ করেন।

তবে সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে স্বীকার করলেও হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আহমদ।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা বিএনপিকে বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বারহাট্টা থানার ওসি বাধা দেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে সবার শেষে তাদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেওয়া হয়। তবে বারহাট্টা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ও বারহাট্টা ইউএনও গোলাম মোর্শেদ দু'জনই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন

×