ঈশ্বরদীতে আ'লীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ২৫
ঈশ্বরদীতে বিজয় র্যালিকে কেন্দ্র করে আ'লীগের দু'পক্ষে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে- সমকাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৫৬ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:১৬
বিজয় র্যালিকে কেন্দ্র করে সোমবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা। এসব ঘটনায় নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই র্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এছাড়া সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে এসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে শ্রমিক লীগের বিবদমান দুই পক্ষ।
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের হট্টগোল হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার মুখে ফুল না দিয়েই ফিরে যেতে হয় নির্মূল কমিটিকে। বিস্তারিত ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবরে-
ঈশ্বরদী (পাবনা) : সোমবার সকালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং পৌরসভার ব্যানারে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু পৃথক র্যালির আয়োজন করেন। একই সময় পৃথক র্যালিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শহরের পোষ্ট অফিস মোড় এলাকায় দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ১০টার দিকে উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পোষ্ট অফিস মোড় এলাকাসহ শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে রাস্তার দু'পাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা, রাস্তার উভয়পাশে প্রচুর সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি খন্ড মিছিল এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের নেতৃত্বে একটি খণ্ড মিছিল মুখোমুখি হয়। এ সময় দুই মিছিলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই মিছিলই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজয় র্যালিতে অংশগ্রহণ নেওয়া আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পোষ্ট অফিস মোড়ে উপজেলা যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পুলিশ দুই দফায় বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আছেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি মহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, পৌর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ইউনুছ আলী মিন্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান বিশ্বাস, পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মোলল্গা, ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. রাজু, যুবলীগ নেতা মাসুম, ছাত্রলীগ নেতা মুরাদ হোসেন টিটু, আল-আমিন হোসেন, রেজাউল করিম, মেহেদী হাসান সংগ্রাম, ইয়াকুব আলী, ইমরান হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াছ আলী।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল বলেন, শান্তিপূর্ণ বিজয় র্যালিতে ঈশ্বরদী থানার ওসিসহ পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে তা ন্যাক্কারজনক। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি বলেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাদের কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করেছে যা খুবই দুঃখজনক।
ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, বিজয় র্যালীতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কেউ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউ হামলা করতে পারেনা, যারা এই হামলা করেছে তারা আওয়ামীলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জামায়াত শিবির ও মোশতাক চক্রের প্রেতাত্মা।
ঈশ্বরদী থানার ওসি তদন্ত অরবিন্দ সরকার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
সিলেট : সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে এসে মারামারিতে জড়িয়েছে শ্রমিক লীগের বিবদমান দুইপক্ষ। সোমবার সকালে শহীদ মিনার সংলগ্ন চৌহাট্টার ট্রাস্ট ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সেলিম দাবি করেছেন, কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আব্দুর রহমান, নুরুল আমিন, সাবেক সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমদ টিপুর নেতৃত্বে চৌহাট্টার সড়ক ও জনপথের কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে যাচ্ছিলেন শ্রমিক লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তারা ট্রাস্ট ব্যাংকের সামনে আসার পর মহানগর শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালালে উভয় পক্ষ মারামারিতে জড়ায়। অবশ্য দ্রুত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমদ টিপু অভিযোগ করেন, শ্রমিক লীগের তারেক, সালাহ উদ্দিন, বিজিত লালসহ বর্তমান কমিটির নেতারা তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুলের ডালা ভেঙে ফেলে। মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেন, এরা কিসের শ্রমিক লীগ?
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদা ফরিদা মুনমুন ও আইনবিষয়ক সম্পাদক আরিফ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্মূল কমিটির সদস্যরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। ওই সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তাদেরকে বিএনপি ও জামায়াত পরিবারের সন্তান আখ্যা দিয়ে গালাগাল করতে থাকেন। এ নিয়ে নির্মূল কমিটির নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বিতন্ডার একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু হয়। পরে নেতারা ফুল না দিয়েই ফিরে যান।
- বিষয় :
- আ'লীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ
- ঈশ্বরদী
