ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই এমপিসহ অর্ধশতাধিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

দুই এমপিসহ অর্ধশতাধিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক
×

হকিকত জাহান হকি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৫:০৫ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৫:১৭

বিতর্কিত অর্ধশতাধিক ব্যক্তির অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের টিম কাজ করছে। দুদকের তালিকায় আলোচিত জি কে শামীম, খালেদ হোসেন ভূঁইয়া, ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কতিপয় সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নামও রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে সরকারি দলের দুই এমপিরও। তারা হচ্ছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের শামসুল হক চৌধুরী এবং ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক শাওন, তার স্ত্রী, বাবা, মা ও তার স্বার্থ সংশ্নিষ্ট সবার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। দুই এমপি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে কতটুকু জড়িত, এই ব্যবসায় তাদের হাত আছে কি-না, কিংবা এক্ষেত্রে তারা পৃষ্ঠপোষকতা করছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালিকার অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধেই  অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা করে বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ৪৩ জনের তালিকা এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পেয়েছে কমিশন। অনুসন্ধানের স্বার্থে কমিশন এই তালিকার অধিকাংশ নাম গোপন রেখেছে।

কমিশনের সিদ্ধান্তে সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে জোরেশোরে। অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা এরই মধ্যে তাদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন। যাদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া যাবে তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

অনুসন্ধান পর্যায়ে দুদক টিম বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও তালিকা তৈরি করছে। তবে ক্যাসিনো ব্যবসার অপরাধ দুদক আইনের আওতায় না থাকায় কমিশন সংশ্নিষ্টদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করছে।

দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ক্যাসিনো ব্যবসা করে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীরা কোন দল করেন বা কোন মতবাদে বিশ্বাসী- এটি তাদের কাছে মুখ্য নয়। এ ক্ষেত্রে তারা দেখছেন তাদের তফসিলভুক্ত অপরাধ। বিতর্কিত ক্যাসিনো ব্যবসার পাশাপাশি যারা টেন্ডারবাজি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদেরও ধরা হবে। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

দুদকের অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা অভিযুক্ত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অনুসন্ধান করছেন। আগামী কিছু দিনের মধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। পরে তাদের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হবে। যারা জেলে আছেন তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। দুদকের এই তালিকা থেকে ২০ জনের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুই এমপির নাম উল্লেখযোগ্য।

তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এর পর থেকে সারাদেশ থেকে র‌্যাব ও পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধশত অভিযান পরিচালনা করে তিন শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও যারা আলোচিত: ঢাকা মহানগরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যুবলীগের নেতারা আলোচনায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন। দুদকের তালিকায় আলোচিত যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ হোসেন ভূঁইয়া, জি কে বিল্ডার্সের মালিক যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, জি কে শামীমের মা আয়েশা খাতুন, স্ত্রী শামীমা সুলতানা, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, তার স্ত্রী, কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা রুপন ভূঁইয়া, ঢাকার মগবাজারের শফিকুল আলম, ঢাকা মহানগর যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুকের ক্যাশিয়ার কাজী আনিসুর রহমান, ঢাকার মতিঝিল এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান।

গণপূর্ত অধিদপ্তর: তালিকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের নামও রয়েছে।

আরও পড়ুন

×