ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে: পরিবেশমন্ত্রী
×

আগারগাঁওয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৯

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদনব্যবস্থা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩–২০৫০ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তবতা। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে ঘটে যাওয়া ঘটনাও এর বাইরে নয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রবণতা বেড়েছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু অঞ্চলেই বন্যা হচ্ছে না, পাহাড়ি এলাকাতেও বন্যা হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগাম সতর্কতা জারি করা হলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া সেরা স্টলের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাদের অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×